Uncategorized

নিবন্ধ রচনা “প্রকৃতি ও বিশ্বজগতের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা”

Rate this post

প্রিয় নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা আজকে তোমাদের ১০ম সপ্তাহের ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষার অ্যাসাইনমেন্ট ২০২১ এর উত্তর নিয়ে হাজির হয়েছি। চলো তাহলে প্রশ্নটি দেখে নেওয়া যাক।

 

নিবন্ধ রচনা "প্রকৃতি ও বিশজগতের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা"

“প্রকৃতি ও বিশ্বজগতের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা” শিরােনামে তােমার পাঠ্য বইয়ের ভিত্তিতে এবং কুরআন ও সুন্নাহর। আলােকে একটি নিবন্ধ রচনা কর। (সর্বোচ্চ ২০০ শব্দ)।

নির্ধারিত কাজ

নমব শ্রেণি ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা অ্যাসাইনমেন্ট ২০২১ এর প্রশ্ন

“প্রকৃতি ও বিশ্বজগতের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা” শিরােনামে তােমার পাঠ্য বইয়ের ভিত্তিতে এবং কুরআন ও সুন্নাহর। আলােকে একটি নিবন্ধ রচনা কর। (সর্বোচ্চ ২০০ শব্দ)।
সংকেতঃ
১. তাওহিদের পরিচয়। 
২. সৃষ্টি জগতের বাস্তব উদাহরণ 
৩. আল কুরআন ও সুন্নাহর প্রাসঙ্গিক উদ্ধৃতি

নমুনা উত্তর

 তাওহিদের পরিচয়

তাওহিদ শব্দের অর্থ হলো “একত্ববাদ”। ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় আল্লাহ তায়ালাকে এক ও অদ্বিতীয় হিসেবে স্বীকার করে নেওয়াকে তাওহিদ বলে। মুসলিম হতে হলে একজন মানুষকে সর্বপ্রথম আল্লাহ তা’আলার একত্ববাদে বিশ্বাস করতে হবে। তাওহিদে বিশ্বাস ব্যতীত কোন ব্যক্তি ইসলামে প্রবেশ করতে পারে না। ইসলামের সকল শিক্ষা ও আদর্শ তাওহিদের উপর প্রতিষ্ঠিত। 

পবিত্র কুরআনে মহান আল্লহ বলেনঃ

اللَّهُ لَا إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ
আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। (সূরা আল বাক্বারাহ, আয়াতঃ ২৫৫)
মহান আল্লাহকে সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, রিজিকদাতা ও ইবাদতের যোগ্য এক ও অদ্বিতীয় সত্তা হিসেবে বিশ্বাসের নামই তাওহিদ। দুনিয়াতে যত নবী-রাসুল এসেছেন সবাই তাহিদের দাওয়াত দিয়েছেন। ইসলামের সকল বিধি-বিধান তাওহীদের উপর প্রতিষ্ঠিত। আর ইসলামের মূল বিষয় হল সালাত, যাকাত, সাওম, হজ – সকল ইবাদতই এক আল্লাহর জন্য। মুসলিম হওয়ার পূর্ব শর্ত হলো ঈমান আনা। আর ঈমানের শুরু হল তাওহীদে বিশ্বাস করা। যতক্ষণ পর্যন্ত কেউ তাওহীদে বিশ্বাস করবে না সে মুমিন বলে গণ্য হবে না। 
সৃষ্টি জগতের বাস্তব উদাহরণ
আমাদের চারপাশের সৃষ্টি জগতের দিকে তাকালে আল্লাহপাকের একত্ববাদের পরিচয় পাওয়া যায়। সৃষ্টির শুরু থেকে আজ পর্যন্ত প্রকৃতির সবকিছুই সুচারুরূপে পরিচালিত হচ্ছে। সূর্য সঠিক সময়ে উদিত হচ্ছে আবার অস্ত যাচ্ছে। মহাবিশ্বের যা কিছু আছে সবকিছুর একজনই নিয়ন্ত্রন করছেন। আর তিনি হলেন “আল্লাহ্‌”। 
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেনঃ
لَوْ كَانَ فِيهِمَا آلِهَةٌ إِلَّا اللَّهُ لَفَسَدَتَا فَسُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَرْشِ عَمَّا يَصِفُونَ
যদি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলে আল্লাহ ব্যতীত অন্যান্য উপাস্য থাকত, তবে উভয়ের ধ্বংস হয়ে যেত। অতএব তারা যা বলে, তা থেকে আরশের অধিপতি আল্লাহ পবিত্র।
সূরা আম্বিয়া, আয়াত ২২

একটু লক্ষ্য করলেই দেখা যায় বিশাল এই পৃথিবীর সবকিছুই সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। যদি একাধিক ইলাহ থাকতো তাহলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হত। একজন স্রষ্টা চাইতেন সূর্য পূর্ব দিকে উঠুক, অন্য স্রষ্টা চাইতেন পশ্চিম দিকে উঠুক। কিন্তু সৃষ্টির শুরু থেকে কেয়ামত পর্যন্ত সূর্য তার নিয়মে পূর্ব দিকে উঠবে এবং পশ্চিম দিকে অস্ত যাবে। আল্লহার সৃষ্টিজগতের সামান্য অংশ হল আমাদের পৃথিবী। বড় বড় গ্রহ নক্ষত্র রয়েছে বিশ্বজগতে। এগুলো প্রত্যেকটি সুশৃঙ্খলভাবে ঘুরছে। স্রষ্টা একজন বলেই তা সুশৃঙ্খলভাবে ঘুরছে। কত সুন্দর আমাদের পৃথিবী। বিশাল বিশাল পাহাড়-পর্বত, নদনদী, সাগর মহাসাগর, বিশাল আকাশ, বিস্তৃত মাঠ এইসব নিজ থেকে সৃষ্টি হয় নি। মহান আল্লাহ এইসব সৃষ্টি করেছেন মানুষের উপকারের জন্য। আল্লাহ শুধু সৃষ্টি করেন নি বরং নানা রকম স্বাদ, সৌন্ধর্য্য দিয়েছেন। এক এক ফলের স্বাদ এক এক রকম। আম গাছে আম হয়, জাম গাছে জাম। ফুলের রয়েছে বিভিন্ন সৌরভ। ঋতুভেদে ফুলের বৈচিত্র পরিলক্ষিত হয়। পশু পাখির মধেও রয়েছে ভিন্নতা। এক এক পাখির ডাক এক এক রকম। গরু, ছাগল, বিড়াল তাদের নিজ নিজ স্বরেই ডাকাডাকি করে। যদি একাধিক স্রষ্টা থাকত তাহলে বিশ্বজগতে সবকিছুর মধ্যে অনিয়ম দেখা দিত। কিন্তু বিশ্বজগতের সবকিছুই নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলছে। এতেই প্রমাণিত হয় বিশ্বজগতের পালনকর্তা, নিয়ন্ত্রণকারী একজন মহান আল্লাহ।
আল্লাহপাক আমাদের চারপাশে যা যা সৃষ্টি করেছেন সব আমাদের কল্যাণের জন্য। অসংখ্য নেয়ামত দান করেছেন। খাদ্যের জন্য জমিকে করেছেন উর্বর, আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করে প্রকৃতিকে করেন সতেজ।
আল্লাহপাক পবিত্র কুরআনে বিভিন্ন আয়াতে তার একত্ববাদের পরিচয় দিয়েছেন। আল্লাহ বলেনঃ
الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ طِبَاقًا مَّا تَرَى فِي خَلْقِ الرَّحْمَنِ مِن تَفَاوُتٍ فَارْجِعِ الْبَصَرَ هَلْ تَرَى مِن فُطُورٍ
অর্থঃ যিনি সাত আকাশ সৃষ্টি করেছেন সুবিন্যস্তভাবে। তুমি পরম করুণাময়ের সৃষ্টিতে কোনো অসামঞ্জস্য দেখতে পাবে না। তারপর তুমি দৃষ্টি ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে নাও, তুমি কি কোনো ফাটল দেখতে পাচ্ছ? – সূরা মূলক, আয়াত ৩

উক্ত আয়াতে আল্লাহ তার একত্ববাদের কথা তুলে ধরেছেন। সাত আকাশ সৃষ্টি করেছেন নিপুনভাবে এবং তার সৃষ্টিতে কোন অসামঞ্জস্যতা নেই। যদি আল্লাহ ব্যতীত অন্য ইলাহ থাকত তাহলে সৃষ্টিতে অসামঞ্জস্যতা দেখা যেত। আল্লাহপাক সৃষ্টির মাঝে কোন বক্রতা রাখেন নি। আল্লাহ যা ইচ্ছা তাই করেন, যা বলেন তাই হয়। আল্লাহ এক। আমরা মুসলিমরা আল্লাহর একত্ববাদের ঘোষণা দেই এবং তারই নিকট আমাদের ইচ্ছাকে সমর্পণ করি। 


 এই রকম আরও তথ্য পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন। এর পাশাপাশি গুগল নিউজে আমাদের ফলো করুন। 

Rimon

This is RIMON Proud owner of this blog. An employee by profession but proud to introduce myself as a blogger. I like to write on the blog. Moreover, I've a lot of interest in web design. I want to see myself as a successful blogger and SEO expert.

5 Comments

  1. hello আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া এই হযবরল.কম এখানে ১০ম সপ্তাহে এস্যাইনমেন্ট ইসলাম নৈতিক শিক্ষা ছাড়াও আরো কিছু বিষয় রয়েছে ওগুলো কবে দিবেন ওগুলো তারাতারি দিয়ে দিলে অনেক উপকার হতো plz দয়া করে তারাতারি দিয়ে দিবেন

  2. hello আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া এই হযবরল.কম এখানে ১০ম সপ্তাহে এস্যাইনমেন্ট ইসলাম নৈতিক শিক্ষা ছাড়াও আরো কিছু বিষয় রয়েছে ওগুলো কবে দিবেন ওগুলো তারাতারি দিয়ে দিলে অনেক উপকার হতো plz দয়া করে তারাতারি দিয়ে দিবেন

  3. ভাই আপনি ত দেখি নবম শ্রেণি ছাড়া বাকি সব শ্রেণির উত্তর দিয়ে থাকেন সম্পূর্ণ কিন্তু নবম শ্রেণি উত্তর দেন না কেনো?????????? যেমন নবম সপ্তাহের জীববিজ্ঞান এবং দশম সপ্তাহের ক্যারিয়র শিক্ষা।। পরে ১১তম সপ্তাহের গণিত এবং বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় ত এখনো দেন নি??????????????

মন্তব্য করুন

Back to top button