অনুচ্ছেদ

অনুচ্ছেদ “শীতকাল”

4.6/5 - (206 votes)
শীতকাল অনুচ্ছেদ লিখন ৬ ৭ ৮ ৯ ১০ শ্রেণি

শীতকাল

রূপসী বাংলাদেশ। আমাদের এই সবুজ শ্যামল বাংলার প্রকৃতি জুড়ে ছয় ঋতুর অপরূপ খেলা। পালাবদলের খেলায় বিচিত্র রূপের পসরা নিয়ে আসে ছয়টি ঋতু। সারাটি বছর নব নব রূপের মধ্যে আমাদের বসবাস। প্রকৃতি পাল্টায়, আকাশ রং বদলায়। আমাদের মনের আকাশেও লাগে তার ছোঁয়া। এই ছয় ঋতুর অন্যতম ঋতু শীতকাল। পৌষ ও মাঘ (মধ্য ডিসেম্বর থেকে মধ্য ফেব্রুয়ারি) এই দুই মাস মিলে ষড়ঋতুর পঞ্চম ঋতু শীতকাল। তবে কার্তিক মাস থেকেই ঠাণ্ডা পড়তে শুরু করে। পৌষ-মাঘে শীত বেশি হয়। কখনাে কখনাে ফাল্গুন মাসেও শীত পড়ে। শীতকালে রাত হতে থাকে দীর্ঘ, ছােট হয়ে আসে দিন। সূর্য হেলে পড়ে দক্ষিণে। কমে যায় রােদের উত্তাপ। প্রকৃতি হয়ে যায় স্নান। হলুদ হতে থাকে পাতাপল্লব। তারপর ঝরে পড়ে মাটিতে।

শীর্ণ শুষ্ক প্রকৃতি কুয়াশার চাদর মুড়ি দিয়ে ধরে রিক্ত মূর্তি। শুষ্ক হয়ে ওঠে আবহাওয়া, স্তব্ধ রুপল্লব, নিঝুম চারিধার। শূন্য মাঠের অনেক জমিতেই বিছিয়ে থাকে খড়। বাড়ির কাছাকাছি মাঠগুলাের মধ্যে কৃষকেরা বােরা ধানের বীজতলা করে। দেখতে দেখতে মাঠ সবুজ হয়ে ওঠে চৈতালি ফসলে। মাসকলাই, মটরশুটি, মুগ, রাই, সরিষা, গম, পিঁয়াজ, রসুন, ধনেপাতা, ছােলা আর রকমারি শাকসবজি। শীতের শুরুতেই গ্রামবাংলায় আরম্ভ হয় খেজুর গাছ কাটা, আখ মাড়াই। পৌষে পিঠাপুলির উৎসবে মুখর হয় গ্রাম বাংলা। পুলি, ভাপা, চিতই, পায়েস, পাকান, দুধকলি, রসে ভেজানাে পিঠা, পাটিসাপটা, নকশি পিঠা এবং আরও রকমারি পিঠা তৈরি হতে থাকে শীতকালে। অন্যদিকে কবিগান, জারি-সারি, পালাগান, নাটক, যাত্রা সবই জমজমাট হয়ে ওঠে শীতকালে। নানান জাতের ফুল ফোটে এ ঋতুতে। বাড়ির আঙিনাতেই ফুটে থাকে অসংখ্য রক্তগাঁদা, হলুদগাঁদা, সূর্যমুখী, গােলাপ, চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া, দোপাটি, কুন্দ ফুলসহ নানা রকম ফুল। শীতের দিনে শাক-সবজি আর তরকারিতে সয়লাব হয়ে যায় হাট-বাজার। শিম, বরবটি, ফুলকপি, মুলা, গাজর, টমেটো, কুমড়া বেগুন ছাড়াও পালংশাক, মূলাশাক, বাথুয়ার শাক, লালশাক ইত্যাদি খুব কম দামে পাওয়া যায় হাতের নাগালেই। তাছাড়া ফলের মধ্যে কমলা, কুল, পেঁপে, কলা এবং ডালিম পাওয়া যায় এই শীতে। শীতকালে রােগবালাই কম হয়। শীতকালে নানা জাতের পাখি ছুটে আসে এ দেশের নদী-নালা, বিল-ঝিল আর হাওরে। অতিথি পাখিদের মধ্যে দল বেঁধে আসে বিভিন্ন জাতের হাঁস, মরাল, নীল ডানা হাঁস, জোয়ারি পাখি, সবুজ খঞ্জন, সাদা সারস, ধূসর বটের পাখি, চখাচখি ছাড়াও থাকে নানান জাতের পাখি। শীত শেষে এরা ফিরে যায় আপন দেশে। শীতকালে গরিবদের অনেক কষ্ট হয়। গ্রামের চেয়ে শহরে শীত অনেক কম। শহরের গরিব লােকেরা কিছু সাহায্য সহযােগিতা পেলেও গ্রামের অসহায়দের দিকে তাকাবার লােক নেই বললেই চলে। শীত শেষ হতে না হতেই বসন্তের আগমনী বার্তা ধ্বনিত হয়। আসে বসন্ত ফুলবনে।


 এই রকম আরও তথ্য পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন। এর পাশাপাশি গুগল নিউজে আমাদের ফলো করুন। 

Rimon

This is RIMON Proud owner of this blog. An employee by profession but proud to introduce myself as a blogger. I like to write on the blog. Moreover, I've a lot of interest in web design. I want to see myself as a successful blogger and SEO expert.

মন্তব্য করুন

Related Articles

Back to top button