ভাষণ

পড়ার অভ্যাস গঠন সম্পর্কে ভাষণ

4.8/5 - (6 votes)

পড়ার অভ্যাস গঠন নিয়ে ভাষণ: ‘পড়ার অভ্যাস গঠন’ শীর্ষক আলোচনাচক্রে প্রধান অতিথির একটি ভাষণ তৈরি করো।

আজকের এই মহতী আলোচনা সভার সম্মানিত সভাপতি, উপস্থিত বিশেষ অতিথিবৃন্দ ও উপস্থিত সুধীমণ্ডলী, আসসালামু আলাইকুম ।
আজকের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি নিজেকে আসলেই ধন্য মনে করছি। আমাদের আলোচনা সভার প্রধান আলোচ্য বিষয় ‘পড়ার অভ্যাস গঠন’। তাই আমি প্রথমেই সৈয়দ মুজতবা আলীর উক্তিটি স্মরণের মধ্য দিয়ে আমার বক্তব্য শুরু করছি।

রুটি মদ ফুরিয়ে যাবে, প্রিয়ার কালো চোখ
ঘোলাটে হয়ে আসবে,
কিন্তু বইখানা অনন্ত যৌবনা
যদি তেমন বই হয়।

 

বই মানুষের জীবনের সর্বোত্তম বন্ধু। মানুষ পার্থিব জীবনে অনেককেই বিশ্বাস করে। অন্তরের গহিনে স্থান দেয় প্রেমকে। সার্বক্ষণিক সাহচর্যের মধ্য দিয়ে জীবনপথে এগুতে থাকে। কিন্তু হঠাৎ করে এর মধ্যে ছন্দপতন ঘটে যায়। মুহূর্তেই মানুষ তার প্রিয় প্রেমিককে শোকসাগরে ফেলে দিয়ে চলে যায় । কিন্তু বই মানুষের পাশে থেকে তাকে সার্বক্ষণিক অনুপ্রেরণা দিয়ে যায়।

জীবনের ভালো-মন্দ, গ্রহণীয়-বর্জনীয় প্রভৃতি প্রতিটি দিক সম্পর্কে সারাজীবন তাকে সমাধান করে দিয়ে পরম বন্ধুত্বের পরিচয় দেয়। হতাশ মনে বই-ই এনে দেয় আশার বাণী, এগিয়ে যাওয়ার মূলমন্ত্র ।
সুপ্রিয় সুধী, মানবজীবন বড়ই বৈচিত্র্যময়। পৃথিবীতে বিচিত্র মানুষের বহু বিচিত্র মন রয়েছে। প্রত্যেকের চিন্তা-চেতনা, মেধা-মনন আলাদা ধরনের। আর এই বিচিত্র চিন্তা-চেতনাকে একমাত্র বই-ই নিজের অভ্যন্তরে ধারণ করে থাকে। ফলে বই পড়ার মধ্য দিয়ে মনীষীরা কীভাবে জীবনকে জয় করেছেন তার কথা আমরা বই পড়ার মাধ্যমে জানতে পারি। তাদের জীবনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমরা আমাদের জীবনের নানা সমস্যার সমাধান করার মধ্য দিয়ে কাঙ্ক্ষিত সফলতায় পৌঁছতে পারি।

মানবসভ্যতার বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার হচ্ছে বই। বই অতীত এবং বর্তমানের বহু বিচিত্র জ্ঞানকে মানুষের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় সেতুবন্ধ হিসেবে। তাই বই পড়ার অভ্যাস সবার জন্য অপরিহার্য। সম্মানিত সুধী, বই শুধু আমাদের মনে জ্ঞানের সঞ্চার করে তা নয়, বরং বই তার সাহিত্যরস দিয়ে আমাদের মানবমনকে বিভিন্নভাবে সিক্ত করে। বই পড়ার মধ্য দিয়ে লাভ করা যায় অনাবিল আনন্দ। একঘেয়েমি আর বিষণ্ণতা কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে বই হতে পারে অন্যতম সহযোগী। বইয়ের শত-সহস্র শব্দরাজি পাঠকের মনোহরণে বিধিয়ে দেয় আনন্দ হর্ষের তীর। যার ফলে মানবমন হাসতে থাকে। প্রফুল্লমণ্ডিত এক সুন্দর জীবন উপহার দেয় পাঠককে। তাছাড়া বিশ্বের অনেক মনীষীই বইকে আনন্দ উপভোগের উপকরণ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। বিখ্যাত কবি ওমর খৈয়াম তার কল্পিত স্বর্গে আনন্দ উপভোগের জন্য বইকে পাশে রাখতে চেয়েছেন। আমাদের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় নির্দিষ্ট কিছু পাঠ্যপুস্তক পড়ার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা কোনো প্রকার আনন্দ খুঁজে পায় না। মানুষের দেহের জন্য যেমন ছোট ঘর ছাড়াও বাড়তি আলো-বাতাসের প্রয়োজন হয় পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য। ঠিক তেমনি আমাদের মনোদৈহিক অবস্থার পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য পাঠ্যপুস্তকের বাইরে আনন্দ ও জ্ঞানের জন্য অন্য বই পড়ার দরকার ।

প্রিয় সুধীমণ্ডলী, যে দেশের শিক্ষা ও সাহিত্য যত বেশি সমৃদ্ধ, সে জাতি তত বেশি ঐশ্বর্যশালী। তাই আমাদের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যও বই পড়া জরুরি। আর অভ্যাসটি আরো মজবুত করতে হবে আমাদের নিয়মিত পাঠাগারে আসা-যাওয়ার মধ্য দিয়ে। অনেকের পক্ষেই বেশি বই কেনা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই পাঠাগারে আসার মধ্য দিয়ে বহু ধরনের বই পড়ার মধ্য দিয়ে আমাদের সুপ্ত বিবেককে জাগ্রত করতে হবে। জীবনকে উপভোগের নবকৌশল আয়ত্ত করতে হবে বই পড়ার মধ্য দিয়ে। তবেই জীবন হবে সুন্দর ও উজ্জ্বল। আমি আমার বক্তব্য আর দীর্ঘায়িত করতে চাই না। সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি । আল্লাহ হাফেজ ।

PDF Download [8KB]

 এই রকম আরও তথ্য পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন। এর পাশাপাশি গুগল নিউজে আমাদের ফলো করুন। 

Alina

Chief Editor of this blog. Love to write content and share knowledge with others... I believe Knowledge is POWER...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles

Back to top button