Uncategorized

একজন আদর্শ ব্যবস্থাপকের গুনাবলি (Qualities of a Good Manager)

4.7/5 - (34 votes)

Qualities of a Good Manager



একজন আদর্শ ব্যবস্থাপকের গুনাবলি
Qualities of a Good Manager

যেহেতু ব্যবস্থাপনা একটি সর্বজনীন মানবিক প্রক্রিয়া। আর তাই প্রতিটি কাজই ব্যবস্থাপনার সাথে সম্পৃক্ত এবং প্রত্যেকেই নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে একজন ব্যবস্থাপক। অর্থাৎ, জন্মগতভাবেই প্রতিটি মানুষ একজন ব্যবস্থাপক। তাদের মধ্যে কেউ দক্ষ এবং কেউ অতিদক্ষ বা উত্তম। ফলে তাদের সাফল্যের মধ্যেও তারতম্য লক্ষ্য করা যায়।

তবে একথা সত্য যে, সকলে ব্যবস্থাপক হলেও প্রত্যেকেই সফল ও উত্তম বা আদর্শ ব্যবস্থাপক হতে পারে না। কারণ একজন আদর্শ ব্যবস্থাপকের মধ্যে বিদ্যমান থাকে বিশেষ কতকগুলাে গুণ বা বৈশিষ্ট্য। যার কতকগুলাে তার জন্মগত (Inherent) এবং অন্যগুলাে সে কর্ম অভিজ্ঞতা ও চর্চার মাধ্যমে অর্জন করে থাকে।

একজন উত্তম বা আদর্শ ব্যবস্থাপকের যােগ্যতা বা গুণাবলি বলতে তার কর্মনৈপুণ্য (working efficiency) এব কর্মকুশলতাকে effectiveness) বুঝিয়ে থাকে। একজন আদর্শ ব্যবস্থাপক অন্যের তুলনায় কম সম্পদ less resources), কম শ্রম (least effort) ও কম সময় (minimum time) ব্যয় করে ন্যূনতম খরচে (minimum expenditure) কার্য সম্পাদনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জন করতে পারেন আবার অনেকের মতে একজন আদর্শ ব্যবস্থাপক সময় ও সুযােগমতাে নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা, নিপুণতা ও কর্মকুশলতাকে কাজে লাগিয়ে কার্য সম্পাদনে সচেষ্ট হন। ফলে অন্যের তুলনায় তার সাফল্য হয় অধিক। তবে একথা ঠিক যে, একজন আদর্শ ব্যবস্থাপকের গুণাবলির সংখ্যা কী পরিমাণ হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা মুশকিল।

আধুনিক ব্যবস্থাপনার জনক হেনরি ফেয়ল একজন উত্তম ব্যবস্থাপকের শারীরিক, মানসিক, নৈতিকতা, শিক্ষা, কারিগরি জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা এ ছয়টি (৬) বিশেষ গুণের কথা উল্লেখ করেছেন। আবার অনেকে এর সাথে সততা, বিশ্বস্ততা নিয়মানুবর্তিতা, চারিত্রিক দৃঢ়তা, কর্মদক্ষতা, ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিমত্তা, সাহসিকতা, প্রবণতা, সুঅভ্যাস, ন্যায়পরায়ণতা মার্জিত রুচি, ইত্যাদি গুণের কথা বলেছেন। সে যাইহােক, দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, গবেষণা ও তথ্যাদি বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে বর্তমান জটিল ও প্রতিযােগিতামূলক মুক্তবাজার অর্থনীতির এ বিশ্বায়নের (Globalization) যুগে ব্যবস্থাপনা কার্যে সফলতা অর্জন করতে হলে একজন উত্তম বা আদর্শ ব্যবস্থাপকের মধ্যে নিম্নে বর্ণিত গুণগুলাের অধিকাংশ বিদ্যমান থাকা আবশ্যক বলে বিশেষজ্ঞগণ মত প্রকাশ করেছেন।

 ১. শিক্ষা ও বিশেষ জ্ঞান (Education and Specialized Knowledge): বর্তমান যুগের একজ আদর্শ ব্যবস্থাপককে হতে হবে উচ্চ শিক্ষিত এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনার নীতি ও কলা-কৌশল, হিসাববিজ্ঞান, উৎপাদন বাজারজাতকরণ, যােগাযোেগ, ব্যবসায়-বাণিজ্য, আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি, অর্থনীতি, সমাজনীতি, ইত্যাদি সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞানের অধিকারী। এতে তিনি দক্ষতার সাথে ব্যবস্থাপনার কার্যাবলি সমাধানে সক্ষম হবেন।

২. দায়িত্ব ও কর্তব্য জ্ঞান (Knowledge about the Responsibility and Duty):  একজন উত্তম ব্যবস্থাপক তাঁর দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে যেমনি সচেতন থাকেন, তেমনি কর্তৃত্ব ও দায়িত্বের সীমারেখা মেনে চলেন নিষ্ঠার সাথে। ফলে দায়িত্ব, কর্তব্য ও কর্তৃত্বের মধ্যে কখনও সমস্যা বা সংঘাত দেখা দেয় না।

৩. আত্ম-বিশ্বাস ও দৃঢ় সংকল্পবদ্ধতা (Self-Confident and Firm Determination): একজন উত্তম ব্যবস্থাপককে অবশ্যই নিজের প্রতি হতে হবে দৃঢ় আত্মবিশ্বাসী এবং কাজের প্রতি সংকল্পবদ্ধ ও আত্ব প্রত্যয়ী। এ গুণগুলাে একজন নেতা বা ব্যবস্থাপককে সাফল্যের শীর্ষে পৌছে দিতে সাহায্যই করে না, সাফল্যকে ধরে রাখতেও সাহায্য করে। তাছাড়া যার মধ্যে এ গুণগুলাে থাকে না, তিনি অন্য অনেক গুণের অধিকারী হলেও লক্ষ্যে পৌঁছাতে দেরি করেন বা ব্যর্থ হন।

৪. দূরদর্শিতা (Foresightedness): একজন সফল ও আদর্শ ব্যবস্থাপকের অন্যতম গুণগুলাে কর্ম ও কর্মপরিকল্প সম্পর্কে দূরদর্শিতা ও সঠিক পূর্বানুমান। কারণ, তিনি লক্ষ্যার্জনের জন্যে গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অতীত অভিজ্ঞ ও বর্তমানে প্রাপ্ত তথ্য ও উপাত্ত বিচার-বিশ্লেষণ করে কাজের সাফল্য সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েই কেবল কার্য সম্পাদ অগ্রসর হয়ে থাকেন।

৫. সাহসী ও ঝুঁকি গ্রহণ ক্ষমতা (Courageous and Risk Bearing Capacity): কারবার হচ্ছে ঝুঁকির খেলা । তাই একজন ব্যবস্থাপককে অবশ্যই সাহসী, কর্মনিষ্ঠ ও ঝুঁকি গ্রহণের ক্ষমতাসম্পন্ন হতে হয়। কারণ, একজন অদম্য সাহসী, দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ ও আত্মবিশ্বাসী কারবার ব্যবস্থাপকের পক্ষেই সকল প্রকার প্রতিকূল অবস্থা ও ঝুঁকির মধ্যে একান্ত নিষ্ঠা ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে কাজ করে ঝুঁকিকে সাফল্যে পরিণত করা সম্ভব হয়।
৬. মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা এবং সামর্থ্য (Mental and Physical Fitness and Ability): ব্যবস্থাপনা হচ্ছে মনােজাগতিক চিন্তা ও শারীরিক পরিশ্রমের কাজ। ফলে একজন উত্তম ব্যবস্থাপকের মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা একান্ত প্রয়ােজন। কারণ, তাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। ফরাসি ভাষায় একটি প্রবাদ আছে, মিন সানা ইন করপােরসানাে। অর্থাৎ, সুস্থ দেহে সুন্দর মন অবস্থান করে। এ কারণেই পরিশ্রমের জন্যে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকা আবশ্যক। 
৭. কর্ম অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা (Work Experience and Skill): ব্যবস্থাপনা একটি প্রয়ােগ বিজ্ঞান। তাই দীর্ঘদিনের কর্ম অভিজ্ঞতা একজন ব্যবস্থাপককে অভিজ্ঞ ও দক্ষ করে তােলে। ফলে ব্যবহারিক ক্ষেত্রে তিনি অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কার্য সম্পাদনে সক্ষম হন। এতে করে সাফল্য নিশ্চিত হয় এবং এটাই একজন আদর্শ ব্যবস্থাপকের বৈশিষ্ট্য।
৮. সাংগঠনিক দক্ষতা (Organizing Capacity): ব্যবস্থাপকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের নিমিত্তে একদিকে প্রয়ােজনীয় বস্তুগত ও অবস্তুগত উপায় উপকরণগুলাে সংগ্রহ করে সময় ও সুযােগ মতাে সেগুলােকে সর্বোত্তমভাবে কাজে লাগানাে এবং অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানের কাম্য আকার ও আয়তন নির্ধারণ । তাছাড়া, প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কার্য সুচারুরূপে সম্পন্ন করার জন্যে একটি বিজ্ঞানসম্মত সাংগঠনিক কাঠামাে তৈরি করা জরুরি। সুতরাং একজন ব্যবস্থাপকের অসাধারণ সাংগঠনিক জ্ঞান ও দক্ষতা থাকা বাঞ্ছনীয়। 
৯. সততা ও বিশ্বস্ততা (Honesty and Faithfulness): সততা ও বিশ্বাসযােগ্যতা একজন উত্তম ব্যবস্থাপকের অন্যতম গুণ। কারণ, ব্যবস্থাপক সৎ ও বিশ্বস্ত না হলে প্রতিষ্ঠানের সর্বত্র বিরাজ করে নৈতিক বিশৃঙ্খলা। যা শুধু লক্ষ্যার্জনই ব্যাহত করে না, প্রতিষ্ঠানের বিলুপ্তিরও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সংগঠনসমূহের কথা উল্লেখ করা যায়। 
১০. উদ্যোম ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা (Enterprising and Innovative Capacity): ব্যবস্থাপনা একটি গতিশীল বিষয়। তাই একজন ব্যবস্থাপক সব সময় বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিবেশ ও পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে চলার লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত তার বিচক্ষণতা দিয়ে ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদনের নতুন নতুন কর্মকৌশল, পণ্য ও সেবা ইত্যাদি উদ্ভাবনে সচেষ্ট ও উদ্যোগী হন। ফলে প্রতিষ্ঠানের সর্বত্র বিরাজ করে গতিশীলতা এবং চলমান অবস্থার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে কোন অসুবিধা হয় না। 
১১. ব্যবস্থাপকীয় জ্ঞান (Managerial Knowledge): একজন আদর্শ ব্যবস্থাপক আধুনিক ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া এবং নীতি ও কৌশল সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞানের অধিকারী হয়ে থাকেন। তিনি তাত্ত্বিক জ্ঞান ও ব্যবহারিক কর্ম প্রচেষ্টার মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পারদর্শী হয়ে ওঠেন। প্রয়ােজনে দেশে-বিদেশে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তাঁর ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জ্ঞানকে প্রসারিত ও শানিত করতে হবে।
১২. দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা (Ability to take quick Decision): একজন আদর্শ ব্যবস্থাপকের প্রধান কাজ হলাে সময় ও সুযােগের সদ্ব্যবহার করে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ। কারণ কার্য সম্পাদনের ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নির্দেশনার উপরই ব্যবস্থাপনার সাফল্য সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। উল্লেখ্য, একজন দক্ষ ব্যবস্থাপক সব সময় প্রাপ্ত তথ্য ও উপাত্ত বিচার-বিশ্লেষণ এবং সহকর্মীদের সাথে শলাপরামর্শ করে অনেকগুলাে বিকল্প উপায় হতে সর্বোত্তম বিকল্প কর্মপন্থা বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং সাফল্য হয় নিশ্চিত।
১৩. নিরপেক্ষতা ও ন্যায়পরায়ণতা (Impartiality and Equity): আদর্শ ব্যবস্থাপককে অবশ্যই সৎ, ন্যায়-নিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ হতে হবে। তবেই তিনি অধীনস্থদের নিকট গ্রহণযােগ্য হবেন। সুতরাং একজন আদর্শ ব্যবস্থাপক সব সময় স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি ও পক্ষপাতিত্বের ঊর্ধ্বে অবস্থান করে কার্য সম্পাদন করবেন। এ কাজগুলাে তার আচার-আচরণ, দায়িত্ব ও কর্তব্য বণ্টন, পদায়ন, কার্যের মূল্যায়ন ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হবে।
১৪. তথ্য-প্রযুক্তি জ্ঞান (Knowledge of Information Technology): বর্তমান যুগ হচ্ছে তথ্য প্রযুক্তির যুগ। ব্যবস্থাপনার প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে গাণিতিক ও পরিসংখ্যানের তথ্য ও প্রযুক্তি। ফলে ব্যবস্থাপনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কার্য সম্পাদনে দক্ষতা এবং সাফল্যের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে অভাবিতভাবে। সুতরাং একজন আদর্শ ব্যবস্থাপকের আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি সম্বন্ধে পর্যাপ্ত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা থাকা অপরিহার্য।
১৫. প্রখর স্মৃতিশক্তি ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধি-জ্ঞান (Sharp Memory and Intelligence): উত্তম ব্যবস্থাপককে অবশ্যই প্রখর স্মৃতিশক্তি, তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা ও ধীশক্তি সম্পন্ন হতে হবে। কথায় আছে একজন দক্ষ ব্যবস্থাপক সাধারণের চাইতে অনেক বেশি স্মৃতিশক্তি, বুদ্ধি, জ্ঞান, দূরদৃষ্টি, পর্যবেক্ষণ ও দৃষ্টিশক্তির অধিকারী হন। ফলে অন্যেরা যা সহজে বুঝে না, দেখে না বা অনুমান করে না, তিনি অতি দ্রুত তা বুঝতে ও করতে পারেন এবং এখানেই তার সাথে অন্যদের পার্থক্য।
১৬. যােগাযােগ নৈপুণ্য (Communication Skill): ব্যবস্থাপককে প্রতিনিয়ত প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে বিভিন্ন স্তর ও বিভাগে কর্মরত বিভিন্ন ধরনের অধীনস্থ কর্মীদের সাথে যােগাযােগ রক্ষা করে কার্য সম্পাদন করতে হয়। কারণ, ব্যবস্থাপককে কার্যের নির্দেশ প্রদান, সিদ্ধান্ত জ্ঞাপন, পরামর্শদান, তথ্য ও মতামত বিনিময়, কার্য সমন্বয়, নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি সব ব্যবস্থাপকীয় কার্য বিভিন্ন ধরনের যােগাযােগ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করতে হয়। ফলে একজন উত্তম ব্যবস্থাপক সব সময় চেষ্টা করেন প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তর ও বাহিরের সাথে ফলপ্রসূ যােগাযােগ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে। আর যিনি এ কাজটি যতবেশি নিপুণ ও সার্থকভাবে করতে সক্ষম হন, তাঁর ব্যবস্থাপনা দক্ষতা এবং সাফল্যও ততবেশি অর্জিত হয়।
১৭. নিয়মানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলা (Punctuality and Discipline) : একজন আদর্শ ব্যবস্থাপকের অন্যতম গুণ হচ্ছে নিজে নিয়ম-নীতি ও শৃঙ্খলার প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাশীল হবেন ও কড়াকড়িভাবে মেনে চলবেন এবং অধীনস্থদেরকেও সময়, শৃঙ্খলা ও নিয়ম-নীতি অনুসরণ ও মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ ও বাধ্য করবেন। এতে প্রত্যেকে কর্ম ও সময় সচেতন হয়ে নিয়ম-শৃঙখলার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন এবং যথানিয়মে ও যথাসময়ে প্রদত্ত দায়িত্ব পালন করবেন। ফলে প্রতিষ্ঠানে একটি আদর্শ পরিবেশ সৃষ্টি হবে। 
১৮. আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব (Pleasing Personality): একজন উত্তম ব্যবস্থাপক তার কথায় ও কাজে, চাল-চলনে, আচার-আচরণে, কর্মনৈপুণ্যে ও অভিজ্ঞতায়, শিক্ষা-দীক্ষায়, সিদ্ধান্ত গ্রহণে, সততা ও বিশ্বস্ততা প্রভৃতি গুণে গুণান্বিত হলে অধীনস্থদের নিকট একজন আদর্শ ও আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। ফলে সকলে তাকে সমীহ করে চলে, বন্ধু ভাবে এবং তাঁর যে কোন আদেশ-নির্দেশ মন্ত্রমুগ্ধের ন্যায় পালনে তৎপর হয়। তাছাড়া, একজন আদর্শ ব্যবস্থাপককে সব সময় তাঁর দায়িত্ব, কর্তব্য ও ক্ষমতা প্রয়ােগের সময় আবেগ ও ব্যক্তিস্বার্থ বিসর্জন দিয়ে ন্যায়-নীতি অনুসারে সকলের একজন হয়ে কাজ করতে হবে। এটাও তার ব্যক্তিত্ব স্ফুরণে  সহায়ক। মনে রাখতে হবে, আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব ব্যবস্থাপকের কোন একক গুণ নয়, অনেকগুলাে গুণের সমাহারে এ গুণটি বিকশিত হয়।
১৯. অন্যান্য গুণ ও উপরিউক্ত গুণগুলাে ছাড়াও একজন আদর্শ ব্যবস্থাপকের মধ্যে আত্মমর্যাদা, বন্ধুভাবাপন্ন, সৌহার্দ্যপূর্ণ, আন্তরিক, দায়িত্ব ও কর্তব্য সচেতন, অন্যের মতামত শােনা ও গ্রহণে আন্তরিক, আত্মকর্মের সমালােচনা, আত্মসংযমী, ত্যাগী, মিশুক, অধ্যবসায়ী, পরিশ্রমী, সুঅভ্যাসের অধিকারী, মার্জিত রুচিবােধসম্পন্ন, নির্ভরযােগ্য, কুশলী, বাগ্মিতা, তেজস্বী, ইত্যাদি গুণাবলি থাকা দরকার। 
উপসংহারে বলা যায়, একজন ব্যবস্থাপকের মধ্যে একই সাথে উপরিউক্ত গুণগুলাে থাকা প্রায় অসম্ভব। তবে একথা সত্য যে, কোন ব্যবস্থাপকের মধ্যে উক্ত গুণগুলাে অধিক পরিমাণে বিদ্যমান থাকলে, তিনি নিঃসন্দেহে একজন আদর্শ বা উত্তম ব্যবস্থাপক হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবেন। কারণ, বিশ্বের অধিকাংশ সফল নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপকদের মধ্যে কম-বেশি এ গুণগুলাে দেখা গিয়েছে।

 এই রকম আরও তথ্য পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন। এর পাশাপাশি গুগল নিউজে আমাদের ফলো করুন। 

Rimon

This is RIMON Proud owner of this blog. An employee by profession but proud to introduce myself as a blogger. I like to write on the blog. Moreover, I've a lot of interest in web design. I want to see myself as a successful blogger and SEO expert.

মন্তব্য করুন

Back to top button