ইসলাম ও জীবনরমজান

রমজান মাসে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আমল

Rate this post

রমজান মাস রহমত আর বরকতের মাস। এ মাস অন্যসকল মাস থেকে অধিক ফযিলতপূর্ণ কারণ এ মাসে আল্লহপাক পবিত্র কুরআন নাযিল করেছেন। এ মাসে একটি নফল ইবাদাত একটি ফরজের সমতুল্য। তাই আমাদের উচিত রমজান মাসে বেশি থেকে বেশি আমল করা। রমজান মাসে বিশেষ কয়েকটি আমলের কথা বলব। আশা করি আপনাদের উপকারে আসবে।
রমজান মাসে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আমল
রমজান মাসে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আমল

রমজান মাসের বিশেষ কয়েকটি আমল

  • রমজানের চাঁদ দেখাঃ  রমাদানকে কেন্দ্র করে একজন ইমানদারের গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ হল শাবান মাসের শেষ তারিখে (২৯ তারিখে) তিনি আকাশে রমজান মাসের চাঁদকে তালাস করবেন। এবং রমাজনের চাঁদ দেখার দোয়া পাঠ করবে। হাদিসে বলা হয়েছে, আবূ হূরায়ারা থেকে বর্ণিত,  রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এরশাদ করেছেনঃ

    তোমার চাঁদ দেখে সিয়াম আরাম্ভ করবে  এবং চাঁদ দেখে ইফতার করবে (ঈদ পালন)।” (সহীহ বুখারি  হাদিস নং ১৯০৯)

  • রোজা রাখাঃ রমজানের চাঁদ দেখা গেলে বা রমজান শুরু হয়ে গেলে একজন মুমিনের প্রধান আমল হল গোটা রমজান মাস জুড়ে দিনের বেলা সিয়াম পালন করা অর্থাৎ রোজা রাখা। রোজা সকল মুসলিম নর-নারীর উপর ফরজ করা হয়েছে। আল্লাহপাক পবিত্র কুরআনে বলেছেনঃ

    হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পার। (সূরা আল-বাক্বারাহ, ১৮৩)

    রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এরশাদ করেছেনঃ

    যে ব্যক্তি রমজান মাসে গোটা মাস ব্যাপী ঈমান ও ইখলাসের সাথে রোজা রাখবে আল্লহপাক তার পিছনের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দিবেন।

  • তারাবি নামায/কিয়ামুল লাইল আদায় করাঃ রমজান মাসে এশার সালাতের পর তারাবি সালাত আদায় করা। তারাবি সালাত আদায় করা সুন্নাত। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এরশাদ করেছেনঃ 

    যে ব্যক্তি ঈমান ও ইখলাসের সাথে তারাবির সালাত অর্থাৎ রাতের নফল সালাত দাঁড়িয়ে আদায় করবে এশার ফরয নামাযের পরে আল্লাহপাকের পক্ষ থেকে ঘোষণা, তার পূর্বের সকল অন্যায় ও ভুলত্রুটি মাফ করে দেওয়া হবে।

  • ইফতার করাঃ ইফতার করা রমজান মাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। এবং সেই ইফতারটাকে বিলম্বে না করে সূর্য ডুবার সঙ্গে সঙ্গে করে নেওয়া। সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

    লোকেরা যতদিন শীঘ্র ইফতার করবে, ততদিন তারা কল্যাণের উপর থাকবে। (সহীহ বুখারী, ১৯৫৭)

  • সাহরী খাওয়াঃ রমজান মাসের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হল সাহরী খাওয়া। এবং আমাদের উচিত সাহরী দেরিতে খাওয়া। আদম ইবনু আবূ ইয়াস (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

    তোমরা সাহরী খাও, কেননা সাহরীতে বরকত রয়েছে। (সহীহ বুখারী, হাদিস নম্বরঃ ১৮০১) 

  • ইফতারির আগে দোয়া করাঃ ইফতারির আগে দোয়া করা গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল। কারণ ওই সময় দোয়া করলে আল্লাহ তা কবুল করে নেন। হাদিসে এসেছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

    তিন প্রকার ব্যক্তির দোয়া কখনো বৃথা যাবে না। অবশ্যই তাদের দোয়া আল্লাহর কাছে গৃহিত হবে। (১) রোজাদার ব্যক্তি। (২) ন্যায়পরায়ণ শাসক ও (৩) নির্যাতিত ব্যক্তি”।

    সুতরাং রোজাদার ব্যক্তি যদি ইফতারের আগমুহূর্তে দোয়া করেন তাহলে আল্লহ তাকে ফিরিয়ে দিবেন না।

  •  মিথ্যা বর্জন করাঃ মিথ্যা বলা মহা পাপ। সকল পাপের মূল হল মিথ্যা। রোজা রেখে যদি কেউ মিথ্যা বলে তাহলে সে শুধুই উপবাস করল অর্থাৎ তার রোজা নষ্ট হয়ে গেল। সহীহ বুখারীতে এসেছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

    যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ছাড়ল না সে ব্যক্তি রোজা রেখে সিয়াম পালন করে না খেয়ে উপবাস থাকার কোন প্রয়োজন আল্লহর নেই।

  •  ঝগড়া থেকে বিরত থাকাঃ আবূ হুরাইরা (রাঃ) আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ

    যখন তোমাদের কারো রোযার দিন হবে, সে যেন অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ না করে ও হৈ-হট্টগোল না করে। আর যদি কেউ গালাগালি করে অথবা তার সাথে লড়াই ঝগড়া করে, তাহলে সে যেন বলে যে, আমি রোজাদার। (বুখারী ১৮৯৪, মুসলিম ১১৫১)

  • অন্য রোজাদার ব্যক্তিকে ইফতার করানোঃ রমজান মাসের বিশেষ একটি আমল হল অন্য রোজাদার ব্যক্তিকে ইফতার করানর চেষ্টা করা। এটি খুবই সওয়াবের কাজ। হাদিসে এসেছে, অন্য রোজাদার ব্যক্তিকে যদি কেউ ইফতার করায় সেক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি রোজা রেখে যে পরিমান সওয়াব পেয়েছেন তাতো তিনি পেবেনই অতিরিক্ত আরও একটি রোজার সওয়াব আল্লহপাক দান করবেন।

  • কোরানুল কারিমের আলোচনা করাঃ রমজান মাসে কোরানুল কারিমের দারস বা আলোচনা বেশি বেশি করা। হাদিসে এসেছে, রাসুল (সাঃ) এর কাছে জিবরাইল (আঃ) রমজান মাসে প্রতিরাতে আসতেন  এবং কোরানুল কারিমের দারস বা ক্লাস দিতেন। আর এই রমজান মাসেই কুরআন নাযিল হয়েছে। সুতরাং আমাদের উচিত রমজান মাসে কোরানুল কারিমের আলোচনা বেশি বেশি করা।

  • অধিক দান সদকা করাঃ আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এমনিতেই বেশি বেশি দান সদকা করতেন কিন্তু রমজান মাসে তিনি দানের পরিমান বাড়িয়ে দিতেন। সুতরাং আমাদের উচিত রমজান মাসে অধিকহারে দান সদকা করা।

  • মেসওয়াক করাঃ আমির ইবনে রাবিয়া (রাঃ) বর্ণনা করেছেনঃ রাসুল (সাঃ) কে তিনি রোজা রাখা অবস্থায় এতবেশি মেসওয়াক করতে দেখেছেন যে গুনে শেষ করা যাবে না। সুতরাং রমজান মাসে দিনের বেলায় সিয়াম রাখা অবস্থায় বেশি বেশি মেসোয়াক করা গুরুত্বপূর্ণ আমল। তাছাড়া, হাদিসে বলা হয়েছে মেসওয়াক মুখকে পরিষ্কার করে এবং আল্লাহকে সন্তুষ্ট করে।

  • ওমরা করাঃ রমজান মাসের বিশেষ আমল হল সামর্থ্য থাকলে ওমরা করা। রাসুল (সাঃ) এরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি রমজান মাসে ওমরা করল সে ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল (সাঃ) এর সাথে হজ্জ করার সওয়াব পাবে। 

  • রমাজানের শেষ ১০দিন বেশি ইবাদাত করাঃ রাসূল (সাঃ) সবচেয়ে বেশি ইবাদাত করতেন রমজানের শেষ ১০ দিনে। 

  • রমাজানের শেষ ১০দিন মসজিদে এতেকাফ করাঃ বুখারী শরীফে এসেছে রাসুল (সাঃ) জীবনে প্রত্যেকটা রমজানের শেষ ১০ দিন তিনি মসজিদে এতেকাফ করেছেন। যে বছর করতে পারতেন না পরের বছর সেটা ডবল করে এতেকাফ করতেন। 

  • লাইলাতুল ক্বদরকে তালাশ করাঃ রমজানের শেষ ১০ দিনের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল ক্বদরকে তালাশ করা রমজান মাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল। আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, তোমরা (লাইলাতুল কদর /ক্বদর) অনুসন্ধান কর। (সহীহ বুখারী, ২০১৯)

  • যাকাতুল ফিতর আদায় করাঃ রমজান মাসের আরও একটি বিশেষ আমল হল যাকাতুল ফিতর আদায় করা। ঈদের নামাযের আগে আগে একজন ইমানদারকে আদায় করতে হয়। ঈদের চাঁদ দেখার পর থেকে পরিবারের কর্তা যিনি তিনি পরিবারের সকলের হয়ে যাকাতুল ফিতর আদায় করবেন। 

  • ক্ষমা ও জাহান্নম থেকে মুক্তির দোয়া করাঃ রমজানের শেষ ১০ দিন বেশি বেশি করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য দোয়া করা। হজরত আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একবার আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি বলে দিন, আমি যদি লাইলাতুল কদর কোন রাতে হবে তা জানতে পারি, তাতে আমি কী (দোয়া) পড়বো? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি বলবেঃ

اللَّهُمَّ إِنَّكَ عُفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুওয়ুন; তুহিব্বুল আফওয়া; ফাফু আন্নি।
অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল; ক্ষমা করতে ভালো বাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন। (মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মিশকাত)

(আবু দাউদ, মিশকাত)


 এই রকম আরও তথ্য পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন। এর পাশাপাশি গুগল নিউজে আমাদের ফলো করুন। 

Rimon

This is RIMON Proud owner of this blog. An employee by profession but proud to introduce myself as a blogger. I like to write on the blog. Moreover, I've a lot of interest in web design. I want to see myself as a successful blogger and SEO expert.

মন্তব্য করুন

Related Articles

Back to top button