বাংলা রচনা

রচনা : ছাত্রজীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য

3.6/5 - (2163 votes)

ছাত্রজীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য বাংলা রচনা প্রবন্ধ

ভূমিকা

আমরা শক্তি আমরা বল
আমরা ছাত্রদল
মোদের পায়ের তলায় মূর্চে তুফান
ঊর্ধ্বে বিমান ঝড়-বাদল
আমরা ছাত্রদল। – কাজী নজরুল ইসলাম

ছাত্ররাই একটি দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের দিকেই তাকিয়ে থাকে দেশ ও সমাজ। তারা ভোরের শিশির, প্রভাতের আলোর মতো নবজীবনের দ্যুতি ছড়ায়। তারা তাদের কর্মে দেশ ও সমাজের সব অনাচার, অবিচার, অসঙ্গতি দূরে ঠেলে দেয়। তাদের মধ্যে রয়েছে অপার সম্ভাবনা। তারা পারে না এমন কাজ পৃথিবীতে নেই। ছাত্রসমাজ জেগে উঠলে পুরো জাতি, দেশ ও পৃথিবী জেগে উঠে। তারা তাদের সংগ্রাম দিয়ে যেমন দেশকে সংঘাত মুক্ত করে তোলে, তেমনি নৈতিকতা, শিষ্টাচার, সৌজন্যতা দিয়ে দেশকে সুখী ও সুন্দর করে তোলে।

ছাত্রজীবন 

অধ্যায়নের জীবনটাই ছাত্রজীবন। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে দেশের বাইরে বিভিন্ন গবষেণামূলক অধ্যয়নের সবটুকুই ছাত্রজীবনের অন্তর্ভুক্ত। একজন ছাত্র কোনো কিছুতেই পিছপা হয় না। ছাত্রজীবন মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। ছাত্রজীবনেই মানুষ ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত গড়ে তোলে। জীবনকে প্রাণপ্রাচুর্যে ভরে তোলার শিক্ষা মানুষ ছাত্রজীবন থেকে পায়। বদান্যতা, সততা, ন্যায়-নিষ্ঠা, নিয়মানুবর্তিতা, দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ, মহানুভবতার শুরু ছাত্র জীবন থেকেই। প্রতিটি ছাত্রই দেশগড়ার হাতিয়ার। ভবিষ্যতে তারাই দেশের নেতৃত্ব দিবে। M.K Gandhi বলেন,

The students are the Future leaders of the country who could fulfill country’s hopes being capable.

ছাত্রজীবনের গুরুত্ব 

প্রতিটি মানুষের জন্যই ছাত্রজীবন গুরুত্বপূর্ণ। এটি মানবজীবনের সর্বোৎকৃষ্ট সময়। এ সময়কে ভবিষৎ জীবনের বীজ বপনের সময় বলা হয়। এ সময়ে যেমন বীজ বপন করা হয়, ভবিষৎতে তেমন ফলই পাওয়া যায়। এ সময়ে নিয়মিত জ্ঞাণ অনুশীলন করলে ভবিষ্যৎ জীবন উজ্জ্বল ও সুখময় হয়ে ওঠে।

ছাত্রজীবন মানবজীবনের বীজ বপনকাল

ছাত্রজীবনের গুরুত্ব বিবেচনা করে এ সময়কে মানবজীবনের বীজ বপনকাল বলে অভিহিত করা হয়েছে। উপযুক্ত সময়ে বীজ বপন করে যথাযথ পরিচর্যা না করলে যেরূপ কৃষক ভালো শস্য উৎপাদন করতে পারে না, অনুরূপভাবে ছাত্রজীবনে উপযুক্ত শিক্ষার বীজ বপন করতে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যৎ জীবনের উন্নতি ও সাফল্য লাভের আশা করা যায় না। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চরিত্র ছাত্রজীবনে অর্জিত না হলে পরবর্তী জীবনে তা আর অর্জন করা সম্ভব হয় না। এ প্রসঙ্গে মনীষীদের বক্তব্য হচ্ছে-

আমরা সেই শিক্ষা চাই, যার দ্বারা চরিত্র গঠিত হয়, মনের বল বৃদ্ধি পায় এবং যার বলে মানুষ নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে।

বস্তুত, এরূপ কল্যাণকর শিক্ষালাভের প্রকৃষ্ট সময় ছাত্রজীবন।

জ্ঞানার্জন 

ছাত্ৰনং অধ্যয়নং তপঃ কথাটি প্রত্যেক ছাত্রের অন্তরেই সদা জাগ্রত থাকা উচিত। শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। জাতির উন্নতির মূলে রয়েছে শিক্ষা। ছাত্র-ছাত্রীদেরকে কঠোর পরিশ্রম এবং একনিষ্ঠ সাধনা দ্বারা জ্ঞানার্জন করতে হবে। নিজেকে অসৎ সঙ্গ থেকে সর্বদা মুক্ত রেখে যথারীতি পাঠ্যপুস্তক অধ্যয়নের ব্যাপারে মনােযােগী হতে হবে।

ছাত্রজীবনে অধ্যবসায়

জ্ঞান আহরণের জন্য প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীকে কঠোর পরিশ্রমী ও অধ্যবসায়ী হওয়া জরুরি। পৃথিবীতে যারা অবিনশ্বর কীর্তি রেখে গেছেন, তাদের যে প্রতিভা ছিল তা প্রধানত কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়েরই ফলশ্রুতি। শ্রমবিমুখ প্রতিভা বলতে কিছু নেই- ছাত্র-ছাত্রীদেরকে এ কথাটি মনে রেখেই এগিয়ে যেতে হবে। কঠোর শ্রম ও অধ্যবসায় মানুষের বুদ্ধিকে শানিত করে, শিক্ষার্থীকে সফলতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের গুণে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরাও উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছতে পারে। 

চরিত্র গঠন

ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য অপেক্ষা করছে আগামীদিনের দেশ পরিচালনার দায়িত্ব। অর্জিত জ্ঞানকে সার্থকভাবে প্রয়ােগের জন্য প্রয়ােজন উন্নত চরিত্র। তাই জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি উত্তম চরিত্র গঠনের ব্যাপারেও তাদেরকে মনােযােগী হতে হবে। সকল প্রকার সংকীর্ণতা, স্বার্থপরতা, পরনিন্দা, পরচর্চা এবং অন্যায়-অসত্যের ঊর্ধ্বে থেকে সামগ্রিক কল্যাণে আত্মনিয়ােগ করার ব্রত নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের এগিয়ে যেতে হবে। ছাত্রজীবনে সময়নিষ্ঠতা প্রসঙ্গে কোনাে এক কবির দৃপ্ত উচ্চারণঃ

সময়, সমীর, নীর
নহে বৎস কভু স্থির।

সময় ও নদীর স্রোত কারাে জন্য অপেক্ষা করে না। এজন্য প্রত্যেক মানুষকে সময়নিষ্ঠ, নিয়মানুবর্তী হতে হয়। ছাত্রজীবন সময়নিষ্ঠতা ও নিয়মানুবর্তিতা অর্জনের প্রকৃষ্ট সময়। কেননা ছাত্রজীবনে এসব অর্জনের যতটা সুযােগ রয়েছে জীবনের অন্যান্য সময় তা নেই, তাই ছাত্রজীবনেই প্রত্যেককে সময়নিষ্ঠতা ও নিয়মানুবর্তিতা অর্জন করতে হয়। আর যারা তা অর্জন করতে পারে তারাই জীবনে সফলতা লাভ করতে পারে। 

ছাত্রদের দায়িত্ব ও কর্তব্য

“ছাত্র নং অধ্যয়নং তপ” এটিই ছাত্রদের মূলমন্ত্র। সংস্কৃত এই কথাটির অর্থ- অধ্যয়নেই ছাত্রদের একমাত্র তপস্যা। ছাত্রজীবন মানেই জ্ঞান-বিজ্ঞানের জগৎ। যেখান থেকে ছাত্ররা প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শিখবে। আর এ জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে কর্মমুখী জীবনে প্রবেশ করবে। স্বাস্থ্যকর, মানসম্পন্ন, সুন্দর পরিবেশে কাজ করতে চাইলে ছাত্রজীবন থেকেই সেই মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। ছাত্রজীবনে পড়াশোনার কোনো বিকল্প নেই। তার পাশাপাশি মানুষ্যত্ববোধও অর্জন করতে হবে। শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে। শিক্ষকের আদেশ পালন করলে একটি ছাত্র অবশ্যই ভালো গুণের অধিকারী হতে পারবে। কেননা শিক্ষকই একটি ছাত্রকে সৎ ও মেধাবী করে তোলে। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, “None but those who have the spirit of forbearance are fit to be teaehcr.” তাই শিক্ষককে সর্বোচ্চ মর্যাদার আসনে আসীন করতে হবে। ছাত্রদের অন্যতম প্রধান কর্তব্য শুধুমাত্র পাঠ্যপুস্তকে সীমাবদ্ধ না থাকা। পাঠ্যপুস্তকের বাইরেও অনেক কিছু শেখার রয়েছে যা তাদেরকে প্রকৃত জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করবে।

সামাজিক ক্ষেত্রে ছাত্রসমাজের দায়িত্ব ও কর্তব্য 

একটি দেশের সচেতন নাগরিক হচ্ছে ছাত্রসমাজ। অধ্যয়ন ছাত্রদের মূল লক্ষ্য হলেও সামাজিক ক্ষেত্রে তাদের অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। তারাই দেশকে সঠিক পথ অনুসরণে সহায়তা করতে পারে। আমাদের দেশে এমন অনেক দরিদ্র সুবিধাবঞ্চিত পরিবার রয়েছে যেখানে একটি মাত্র সদস্য শিক্ষিত। সেই সদস্যটি পুরো পরিবারে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ গড়ে তোলে। শুধু পরিবার কিংবা সমাজ নয় ছাত্রসমাজকে পুরো জাতির নিরক্ষরতা দূরীকরণে সহায়তা করতে হবে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যেখানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার মারাত্মক আকার ধারণ করছে সেসব দেশের ছাত্রসমাজের উচিত সংঘবদ্ধভাবে জনগণকে পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে এবং অধিক হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কুফল সম্পর্কে সচেতন করে তোলা। সমাজকে এবং শিক্ষাঙ্গনকে সন্ত্রাসমুক্ত করার দায়িত্ব ছাত্রদেরই কাঁধে নিতে হবে। আমাদের দেশের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামোর কারণে শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান দেওয়া সম্ভব হয় না ফলে বেকারত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু ছাত্রসমাজের উচিত নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি করা। শিক্ষিত যুবকরা যদি কৃষি কাজ, মৎস্য চাষ, পশুপালন, নার্সারি ইত্যাদি ক্ষেত্রে তাদের মেধা ও শ্রমকে কাজে লাগায় তাহলে দেশের উন্নয়ন যেমন বৃদ্ধি পাবে তেমনি বেকারত্বও হ্রাস পাবে।

রাজনৈতিক ক্ষেত্রে দায়িত্ব ও কর্তব্য 

ছাত্রসমাজ অনাচার, অবিচার, অত্যাচার ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সবসময়ই সোচ্চার। আদর্শগতভাবেই তারা রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ে। রাজনীতির বিষবৃক্ষের মূলোৎপাটন করা ছাত্রদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। যুগে যুগে ছাত্রসমাজ দেশের স্বাধীনতা অর্জনে এবং স্বাধীনতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছে। শিক্ষিত, ব্যক্তিত্ববোধসম্পন্ন ছাত্রসমাজ কখনো পরাধীনতার গ্লানি বয়ে বেড়াতে চায় না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ছাত্রদের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। তাছাড়া মাতৃভাষার জন্য তারা যে ত্যাগ স্বীকার করেছে তা ইতিহাসের পাতায় বিরল। ১৯৬২ সালের হামিদুর রহমানের শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন, ’৬৬-এর ছয় দফা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রসমাজ গৌরবময় ভূমিকা পালন করেছিল। তবে বর্তমানে ছাত্ররা রাজনীতির প্রকৃত আদর্শ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে সন্ত্রাসবাজি, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন দুষ্কৃতিমূলক কাজে জড়িয়ে নিজেদের মেধাকে নষ্ট করে ফেলছে।

পারিবারিক ক্ষেত্রে দায়িত্ব ও কর্তব্য

“Charity begins at home” ছাত্ররা পরিবারের কাছ থেকে যেমন অনেক কিছু পায় তেমনি পরিবারের প্রতিও তাদের অনেক দায়িত্ব থাকে। পরিবারের সকলেই তাদের কাছ থেকে ভালো আচার ব্যবহার প্রত্যাশা করে। আব্বু-আম্মু এবং পরিবারের বড়দের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা, ছোটদের প্রতি স্নেহ করা তাদের কর্তব্য।

দেশাত্মবোধ 

ছাত্ররা দেশপ্রেমকে তাদের অন্তরে লালিত করে। তারা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজের জীবন পর্যন্ত বাজি রাখতে পারে দ্বিধাহীনভাবে। ছাত্রদের দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকায় তারা দেশকে আরও বেশি আপন করে নিতে পারে। ছাত্রসমাজ মানেই তরুণ সমাজ। প্রাণপ্রাচুর্যে ভরপুর এই তরুণসমাজকে দেশের ও দেশের মানুষের সেবায় মগ্ন থাকতে হবে। তাদের মধ্যে কোনো ক্লান্তি, কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকা উচিত নয়। বন্যা-দুর্গত, ঝড়ে কবলিত এলাকায়, দুঃস্থ মানুষের পাশে সবসময় তাদের সেবার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।

নিয়মানুবর্তিতা

“Work while you work, play while you play, And that is the way to be happy;”-এ নীতি মেনে চললে ছাত্ররা তাদের সাফল্যের চরম শিখরে আরোহণ করতে পারবে। ছাত্রদের প্রথম কাজ পড়াশোনা। কখনোই তাদের একদিনের কাজ অন্যদিনের জন্য রেখে দিলে চলবে না। ব্যক্তিজীবনে, সমাজ জীবনে, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ছাত্রদের অবশ্যই নিয়মানুবর্তিতার সাথে সুষ্ঠুভাবে তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হবে। ছাত্রজীবন থেকেই নিয়মানুবর্তিতায় বেড়ে উঠলে কর্মজীবনও এর প্রভাব পড়বে।

নৈতিক মূল্যবোধ ও শিষ্টাচার

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের শুধু পরীক্ষা পাসের শিক্ষাই দেওয়া হয় না। তাদেরকে নৈতিক মূল্যবোধ এবং শিষ্টাচারের শিক্ষা দেয়া হয়। নৈতিক মূল্যবোধ ছাত্রকে সৎ, কর্তব্যনিষ্ঠ, নিয়মনিষ্ঠ, পরিশ্রমী সর্বোপরি সুন্দর চরিত্রের অধিকারী করে তোলে। প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠার জন্য চাই নৈতিকতা। শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ ছাত্রসমাজকে নম্র-ভদ্র ও নির্মল চরিত্রের অধিকারী করে। পরিবারের সকলের প্রতি, শিক্ষকদের প্রতি, সহপাঠীদের প্রতি মার্জিত আচরণে ছাত্ররা সকলের কাছ থেকে ভালোবাসা, দোয়া এবং সাহায্য-সহযোগিতা পায়। নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন এবং শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধসম্পন্ন ছাত্রসমাজই পারে ভবিষ্যতে জাতির সুষ্ঠু নেতৃত্ব দিতে। তাই ছাত্রদের শিষ্টাচার ও নৈতিক মূল্যবোধের গুণে অর্জন করতে হবে।

ছাত্রজীবনে বন্ধু নির্বাচন

খেলার এবং স্কুলের বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রেও ছাত্রদেরকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। বিনয়ী, ভদ্র ও পাঠ্যানুরাগী বন্ধুর সাথে মিশলে ভালাে ছাত্র হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। আবার খারাপ ছেলেদের সাথে মিশলে কিংবা নিজ বয়সের চেয়ে বেশি বয়সের কোনাে হঁচড়ে পাকা ছেলেদের সাথে মিশলে বখে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। তাই বন্ধু নির্বাচনে ছাত্রদের সতর্ক হওয়া উচিত। সৎসঙ্গে থাকলে সৎচরিত্র ও সৎগুণাবলি অর্জন করা যায়। 

ছাত্রজীবনে স্বাস্থ্যরক্ষা

ছাত্রজীবনে শুধু পড়াশােনা করলেই চলে না। পাশাপাশি শরীরের প্রতিও যত্নবান হতে হয়, সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হয়। কারণ দুর্বল রােগা ছাত্র অধিক পরিশ্রম করতে পারে না। স্বাস্থ্যবান হতে হলে নিয়মিত খেলাধুলা ও ব্যায়াম করা অত্যাবশ্যক। দেহ সুস্থ ও সবল রাখার জন্য পুষ্টিকর খাবার খেতে হয়। নিয়মিত বিশ্রাম নিতে ও ঘুমাতে হয়। কারণ, সুস্বাস্থ্যের মধ্যেই সুস্থ মন বিরাজ করে। সুস্থ মনই সুশিক্ষা গ্রহণে সক্ষম।

জীবনের লক্ষ্য

ছাত্রজীবনের অব্যবহিত পরেই শুরু হয় কর্মজীবন। আসলে ছাত্রজীবন হলাে বৃহত্তর কর্মজীবনের প্রস্তুতিপর্ব। এসময় ভবিষ্যৎ জীবনের লক্ষ্য স্থির করে নিতে হয়। তাই ছাত্রজীবনে কেবল পড়াশােনা নিয়ে ব্যস্ত থেকে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে উদাসীন থাকলে চলবে না। লক্ষ্যহীনভাবে বিদ্যাচর্চা করলে কর্মজীবনে তা খুব একটি সুফল বয়ে আনতে পারে না। তাই ছাত্রজীবনে লক্ষ্য স্থির করে শিক্ষালাভ করলে ভবিষ্যৎ জীবন সার্থক ও সুন্দর হয়।

উপসংহার

দেশ ও জাতি সৎ, চরিত্রবান, নিয়মনিষ্ঠ, কর্তব্যপরায়ণ, সৌজন্যবোধসম্পন্ন পরিশ্রমী ছাত্রসমাজের কামনা করে। সাম্প্রতিককালে ছাত্রসমাজ আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে বিভিন্ন ধরণের অপরাধমূলক কাজ করছে। ছাত্র-রাজনীতির নামে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে। যা দেশ ও জাতির কাছে মোটেও কাম্য নয়। এভাবে চলতে থাকলে জাতি শেকড়হীন হয়ে পড়বে। তাই ছাত্রসমাজের উচিত তাদের প্রকৃত আদর্শে আলোকিত হওয়া। যে শিক্ষা ও মূল্যবোধ ছাত্ররা অর্জন করে ভবিষ্যতে তা পরিপূর্ণ ভাবে কাজে লাগানো, ছাত্রদের প্রকৃত উদ্দেশ্য হওয়া উচিত।

জানতে চেয়েছেন - অজ্ঞাতকুলশীল
PDF Download [8KB]

 এই রকম আরও তথ্য পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন। এর পাশাপাশি গুগল নিউজে আমাদের ফলো করুন। 

Rimon

This is RIMON Proud owner of this blog. An employee by profession but proud to introduce myself as a blogger. I like to write on the blog. Moreover, I've a lot of interest in web design. I want to see myself as a successful blogger and SEO expert.

4 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles

Back to top button