বাংলা রচনা

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ রচনা (১৫ পয়েন্ট) | SSC | HSC

4.5/5 - (1155 votes)

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ রচনা

প্রিয় শিক্ষার্থী, তোমরা অনেকেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ রচনাটির জন্য অনুরোধ করেছিলে। তাই বিভিন্ন বই থেকে পয়েন্ট সংগ্রহ করে রচনাটি তোমাদের মাঝে উপস্থাপন করা হল। আশা করি তোমাদের উপকারে আসবে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ/অথবা, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ/ অথবা, বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম
বাংলা ২য় | SSC | HSC | Class 6,7,8,9,10,11


বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ রচনার পয়েন্টসমূহ

সূচনা, মুক্তিযুদ্ধ কি, মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট, স্বাধীনতার ঘােষণা, অস্থায়ী সরকার গঠন, স্বাধীনতার ঘােষণা, মুক্তিবাহিনী গঠন  ও যুদ্ধের প্রস্তুতি, মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যৌথ আক্রমণ, পাকবাহিনীর আত্মসমর্পণ ও চুড়ান্ত বিজয়, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, মুক্তিযুদ্ধে বৈদিশিক সাহায্য-সহযােগিতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, উপসংহার

সূচনা

‘মােরা একটি ফুলকে বাঁচাবাে বলে যুদ্ধ করি, 

মােরা একটি মুখের হাসির জন্য অত্র ধরি …।

পরাধীন জাতির স্বপ্ন-সাধ ও মর্যাদা বলতে কোনাে কিছু থাকে না। এজন্য কোনাে জাতিই পরাধীন থাকতে চায় না। পরাধীন জাতি শােষিত ও বঞ্চিত হতে হতে এক সময় তার মধ্যে জন্ম নেয় সংগ্রামী চেতনার। আর এ সংগ্রামী চেতনাই মানুষের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির পথ হিসেবে স্বাধীনতা অর্জনে উদ্বুদ্ধ করে। আমরা বাঙালি বাংলাদেশের Bangladesh অধিবাসী। কিন্তু এ দেশ একসময় পরাধীন ছিল। আমরা ছিলাম পরাধীন দেশের নাগরিক। সুদীর্ঘ নয় মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী এক মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা অর্জন করেছি স্বাধীনতা। আজ আমরা স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের নাগরিক। বিশ্ব দরবারে আমরা বীর বাঙালি হিসেবে পরিচিত। তাই মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতীয় জীবনে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। তবে আমাদের মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস বেদনার ইতিহাস হলেও তা গৌরবােজ্জ্বল মহিমায় ভাস্বর। তাই দেশপ্রেমের কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে—

‘সাবাস বাংলাদেশ, এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়,

জ্বলে-পুড়ে-মরে ছারখার / তবু মাথা নােয়াবার নয়।’

মুক্তিযুদ্ধ কি

মুক্তিযুদ্ধ হচ্ছে প্রাথমিকভাবে একটি জাতি বা গোষ্ঠীর মুক্তি বা স্বাধীনতা লাভের জন্য লড়াই। এই লড়াই একটি ঔপনিবেশিক শক্তিকে উৎখাত করার জন্য হতে পারে অথবা কোন স্বৈরশাসক বা একনায়ককে ক্ষমতা থেকে উৎখাতের জন্য হতে পারে। এই যুদ্ধ দুটি বাহিনীর মধ্যকার নিয়মিত বা সাধারণ যুদ্ধের ন্যায় না, এর বিস্তৃতি ব্যাপক। মুক্তিযুদ্ধের সংজ্ঞার জন্য ইংরেজী ও বাংলা অভিধান ঘাঁটলে আরো স্বল্প পরিসরে মোটামুটি এমন সংজ্ঞাই পাওয়া যায়। এই সংজ্ঞাগুলোর মধ্যে ‘মুক্তি’ নামক একটি সাধারণ অনুমিতি আছে। বস্তুতঃ এই ‘মুক্তি’ ব্যাপারটি পরিষ্কার হলে তার জন্য যুদ্ধের ব্যাপারটিও পরিষ্কার হয়।

মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতীয় উপমহাদেশ পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি দেশে বিভক্ত হয়ে স্বাধীনতা লাভ করে। কৃষ্টি ও সংস্কৃতিতে ব্যাপক পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও কেবল ধর্মীয় সাদৃশ্যের অজুহাতে পাকিস্তানের সাথে বিমাতাসুলভ আচরণ করতে থাকে। প্রথমেই তারা বাংলা ভাষার ওপর আঘাত হানে।

পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের মানুষ ১৯৫২ সালে রক্তের বিনিময়ে তা প্রতিহত করে। এরপর ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে বাঙালি জাতীয়তাবাদের স্ফুরণ ঘটায়। পরবর্তী সময়ে ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনে এবং ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলনে স্বাধীনতার পক্ষে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে তােলে। যার চূড়ান্ত প্রতিফলন ঘটে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে। উক্ত নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের (Sheikh Mujibur Rahman) নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ Awami League নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। কিন্তু দখলদার শাসকগােষ্ঠী বঙ্গবন্ধুর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করতে থাকে। আলােচনার নামে কালক্ষেপণ করে তারা পশ্চিম পাকিস্তান থেকে গােলা-বারুদ এনে মজুত করতে থাকে। এক পর্যায়ে ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যায়। গভীর রাতে ঘুমন্ত বাঙালিদের ওপর চালায় ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড। প্রতিবাদে এদেশের মানুষ জলে-স্থলে-অন্তরিক্ষে দুর্বার প্রতিরােধ গড়ে তােলে। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।

স্বাধীনতার ঘােষণা

২৫ মার্চ কালরাত্রিতে পাকবাহিনীর হত্যাযজ্ঞে সারা বাংলাদেশের মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। এমনি অবস্থায় গ্রেফতারের আগ মুহূর্তে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে স্বাধীনতার ঘােষণা দেন তা ওয়ারলেসের মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়ে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা এম.এ. হান্নান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে পাঠ করলে সারাদেশে ব্যাপক আলােড়ন সৃষ্টি হয়। এরপর ২৭ মার্চ একই বেতার কেন্দ্র থেকে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান Ziaur Rahmanআবারও ঘােষণাপত্র পাঠ করলে সেনাবাহিনীর বাঙালি সদস্যরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আর এভাবেই সশস্ত্রে মুক্তিসংগ্রাম গড়ে ওঠে।

অস্থায়ী সরকার গঠন

১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা হয় কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমা (বর্তমানে জেলা) বৈদ্যনাথতলার অন্তর্গত ভবেরপাড়া (বর্তমান মুজিবনগর) গ্রামে। শেখ মুজিবুর রহমান এর অনুপস্থিতিতে তাকে রাষ্ট্রপতি করে সরকার গঠন করা হয়। অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম Syed Nazrul Islam এবং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব অর্পিত হয় তাজউদ্দিন আহমদের Tajuddin Ahmad উপর। বাংলাদেশের প্রথম সরকার দেশি-বিদেশি সাংবাদিকের সামনে শপথ গ্রহণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব পালন শুরু করে। এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠের মাধ্যমে ২৬ মার্চ হতে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে ঘোষণা করা হয়।

স্বাধীনতার ঘােষণা

২৫ মার্চ কালরাত্রিতে পাকবাহিনীর হত্যাযজ্ঞে সারা বাংলাদেশের মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। এমনি অবস্থায় গ্রেফতারের আগ মুহূর্তে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে স্বাধীনতার ঘােষণা দেন তা ওয়ারলেসের মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়ে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা এম.এ. হান্নান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে পাঠ করলে সারাদেশে ব্যাপক আলােড়ন সৃষ্টি হয়।

৭ই মার্চ ভাষণের একটি ছবি
৭ই মার্চ ভাষণের একটি ছবি

পূর্ব বাংলা রেজিমেন্টের মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের হয়ে ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রচার করে, ফলে বিশ্ব বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা সম্পর্কে জানতে পারে। ঘোষণাটি ছিল নিম্নরূপঃ

On behalf of our great national leader, supreme commander of Bangladesh Sheikh Mujibur Rahman do hereby proclaim the independence of Bangladesh. It is further proclaimed that Sheikh Mujibur Rahman is sole leader of elected representatives of 75 million people of Bangladesh. I therefore appeal on behalf of our great leader Sheikh Mujibur Rahman to the government of all democratic countries of the world specially big world part and neighboring countries to take effective steps to stop immediately. The awful genocide that has been carried on by the army of occupation from Pakistan. The legally elected representatives of the majority of the people as repressionist, it is cruel joke and contradiction in terms which should be fool none. The guiding principle of a new step will be first neutrality, second peace and third friendship to all and anonymity to none. ─ May Allah help us, Jai Bangla.

অনুবাদঃ

আমাদের মহান নেতা, বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক শেখ মুজিবুর রহমানের হয়ে আমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি। এটি আরও ঘোষণা করা হচ্ছে যে বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি জনগণের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের একমাত্র নেতা হচ্ছেন শেখ মুজিবুর রহমান। আমি সেই কারণে আমাদের মহান নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের হয়ে বিশ্বের সকল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিশেষ করে বৃহৎ বিশ্ব ও প্রতিবেশীদের কাছে কার্যকারী পদক্ষেপ নেয়ার জন্য অনুরোধ করছি। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর হামলার ফলে ভয়াবহ গণহত্যা শুরু হয়েছে। অধিকাংশ জনগণের বৈধভাবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নিপীড়নকারী, এটি একটি ক্রূর কৌতুক ও মিথ্যা অপবাদ যার কাউকে বোকা বানানো উচিত নয়। বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে প্রধান পদক্ষেপগুলোর মধ্যে প্রথম হতে হবে নিরপেক্ষতা, দ্বিতীয় শান্তি এং তৃতীয় সকলের সাথে বন্ধুভাবপন্ন ও কারো সম্বন্ধে অজ্ঞানতা নয়। ─ আল্লাহ্ সহায় হোক, জয় বাংলা

মুক্তিবাহিনী গঠন  ও যুদ্ধের প্রস্তুতি

পাক হানাদার বাহিনীর জ্বালাও-পােড়াও, অত্যাচার-নিপীড়নে অতিষ্ঠ হয়ে জীবন বাঁচাতে লক্ষ লক্ষ নারী-পুরুষ প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে আশ্রয় নেয়। এদের মধ্য থেকে কর্নেল (অবঃ) মুহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী M. A. G. Osmani একটি বিরাট গেরিলা বাহিনী ও নৌ-কমান্ডাে বাহিনী গঠন করেন। এর পাশাপাশি তিনি বিমান বাহিনী গঠন করেন। বিমান বাহিনী তাদের নিজস্ব বিমান নিয়েই ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম ও ঢাকায় প্রথম বিমান হামলা চালায়। যুদ্ধ পরিচালনার জন্য সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়। এবং প্রত্যেক সেক্টরে একজন কমান্ডার নিযুক্ত করেন। এ কমান্ডারদের অধীনে মুক্তিবাহিনী হানাদারদের বিরুদ্ধে ইস্পাত কঠিন প্রতিরােধ গড়ে তোলে।


১নং সেক্টর
চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ফেনী নদী পর্যন্ত
মেজর জিয়াউর রহমান (এপ্রিল – জুন)
মেজর রফিকুল ইসলাম (জুন-ফেব্ৰুয়াৱী)
২নং সেক্টর
নোয়াখালী জেলা, কুমিল্লা জেলার আখাউড়া-ভৈরব রেললাইন পর্যন্ত এবং ফরিদপুর ও ঢাকার অংশবিশেষ
মেজর খালেদ মোশাররফ (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর)
মেজর এ.টি.এম. হায়দার (সেপ্টেম্বর-ফেব্ৰুয়াৱী)
৩নং সেক্টর
সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা, কিশোরগঞ্জ মহকুমা, আখাউড়া-ভৈরব রেললাইন থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে কুমিল্লা ও ঢাকা জেলার অংশবিশেষ
মেজর কে.এম. শফিউল্লাহ (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর)
মেজর এ.এন.এম. নুরুজ্জামান (সেপ্টেম্বর-ফেব্ৰুয়াৱী)
৪নং সেক্টর
সিলেট জেলার পূর্বাঞ্চল এবং খোয়াই-শায়েস্তাগঞ্জ রেললাইন বাদে পূর্ব ও উত্তর দিকে সিলেট-ডাউকি সড়ক পর্যন্ত
মেজর সি.আর. দত্ত
৫নং সেক্টর
সিলেট-ডাউকি সড়ক থেকে সিলেট জেলার সমগ্র উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চল
মীর শওকত আলী
৬নং সেক্টর
সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা
উইং কমান্ডার এম.কে. বাশার
৭নং সেক্টর
দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাঞ্চল, বগুড়া, রাজশাহী এবং পাবনা জেলা
মেজর কাজী নুরুজ্জামান
৮নং সেক্টর
সমগ্র কুষ্টিয়া ও যশোর জেলা, ফরিদপুরের অধিকাংশ এলাকা এবং দৌলতপুর-সাতক্ষীরা সড়কের উত্তরাংশ
মেজর আবু ওসমান চৌধুরী (এপ্রিল- আগস্ট)
মেজর এম.এ. মনজুর (আগস্ট-ফেব্ৰুয়াৱী)
৯নং সেক্টর
দৌলতপুর-সাতক্ষীরা সড়ক থেকে খুলনার দক্ষিণাঞ্চল এবং সমগ্র বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলা
মেজর এম.এ. জলিল (এপ্রিল-ডিসেম্বর প্রথমার্ধ)
মেজর জয়নুল আবেদীন (ডিসেম্বরের অবশিষ্ট দিন)
১০নং সেক্টর
কোনো আঞ্চলিক সীমানা নেই। নৌবাহিনীর কমান্ডো দ্বারা গঠিত। শত্রুপক্ষের নৌযান ধ্বংসের জন্য বিভিন্ন সেক্টরে পাঠানো হত
১১নং সেক্টর
কিশোরগঞ্জ মহকুমা বাদে সমগ্র ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলা এবং নগরবাড়ি-আরিচা থকে ফুলছড়ি-বাহাদুরাবাদ পর্যন্ত যমুনা নদী ও তীর অঞ্চল
মেজর জিয়াউর রহমান (জুন – অক্টোবর)
মেজর আবু তাহের (অক্টোবর-নভেম্বর)
স্কোয়ড্ৰণ লীডাৱ এম হামিদুল্লাহ খান (নভেম্বর-ফেব্ৰুয়াৱী)

মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যৌথ আক্রমণ

১৯৭১ সালের নভেম্বরের শেষদিকে মুক্তিযুদ্ধ তীব্রতর হয়ে ওঠে। ৩ ডিসেম্বর পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘােষণা করে। ৪ ডিসেম্বর থেকে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী যৌথভাবে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে বিপর্যস্ত করে তােলে। ৬ ডিসেম্বর ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। ৪ ডিসেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে মুক্তিবাহিনী বাংলাদেশে পাকবাহিনীর সবগুলাে বিমান দখল করে নেয়। মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যৌথ আক্রমণে ১৩ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল শত্রুমুক্ত হয়।

পাকবাহিনীর আত্মসমর্পণ ও চুড়ান্ত বিজয়

১৪ ডিসেম্বর যৌথবাহিনী ঢাকার মাত্র ১৪ কিলােমিটার দূরে অবস্থান গ্রহণ করে। ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বাংলাদেশে অবস্থিত পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল নিয়াজি হাজার হাজার উৎফুল্ল জনতার সামনে আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন। প্রায় ৯৩,০০০ পাকিস্তানি সৈন্য আত্মসমর্পণ করে, যা ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্ববৃহৎ আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান।

বাংলাদেশের মানুষের বহু আকাঙ্ক্ষিত বিজয় ধরা দেয় যুদ্ধ শুরুর নয় মাস পর। ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করলেও সারা দেশে সকল পাকিস্তানি সৈন্যকে আত্মসমর্পণ করাতে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লেগে যায়। পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের দিনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহর বঙ্গোপসাগরের Bay of Bengal দক্ষিণতম প্রান্তে প্রবেশ করে। কিন্তু বাংলাদেশ তখন পাকিস্তানের দখল থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর   দক্ষিণ এশিয়ার দুই দেশ ভুটান ও ভারত পর্যায়ক্রমে সর্বপ্রথম বাংলাদেশকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দান করে।  ভুটানের প্রথম স্বীকৃতির কয়েক ঘণ্টা পরে বেলা বেলা ১১টার সময়  ‘অল ইন্ডিয়া রেডিও’  All India Radio মারফত ভারত বাংলাদেশকে দ্বিতীয় স্বীকৃতি প্রদান করে এবং সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় বাংলাদেশ সম্পর্কে কূটনৈতিক স্বীকৃতি।

মুক্তিযুদ্ধে বৈদিশিক সাহায্য-সহযােগিতা

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে কয়েকটি বিদেশি রাষ্ট্র বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাকবাহিনীর অত্যাচারে প্রায় এক কোটি বাঙালি ভারতে আশ্রয় নেয়। ভারত সরকার এসব উদ্বাস্তুদের খাদ্য, বস্ত্র, ঔষধ দিয়ে সাহায্য করে। রাশিয়াসহ পূর্ব ইউরােপীয় দেশগুলাের সরকার ও জনগণ বাংলাদেশকে সহযােগিতার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী পাকবাহিনীর নির্যাতন-হত্যার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তােলে। এ সময় আমেরিকা ও চীন- এই দুই পরাশক্তি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও তাদের জনগণ বাংলাদেশের জনগণের ন্যায্য দাবির প্রতি একাত্মতা ঘােষণা করে। অবশেষে বৈদেশিক সাহায্য ও মুক্তিবাহিনীর নিরলস চেষ্টায় নয় মাসে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা

মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বর্ণনা থেকে পূর্ববঙ্গের সাধারণ মানুষের জন্য স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার (শুধুমাত্র রাষ্ট্র গঠন নয়) নিমিত্তে যে মূলনীতিগুলো প্রতিভাত হয় সেগুলোকে একত্রে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বোঝায়। এর মাধ্যমে বোঝা যায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ব্যাপারটি ১৯৭১ সালের সাথে সাথে শেষ হয়ে যায়না। বরং বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি যতদিন পর্যন্ত টিকে থাকবে ততোদিন পর্যন্ত এর রাষ্ট্র, সরকার ও জনগণের মধ্যে তার চর্চার ব্যাপারটি অব্যাহত রাখার আবশ্যিকতা আছে। আমাদের মনে রাখতে হবে স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন।

উপসংহার

স্বাধীনিতা তুমি
রবি ঠাকুরের অজর কবিতা অবিনাশী গান
স্বাধীনতা তুমি
কাজী নজরুলের ঝাঁকড়া চুলের বাবরি দোলানো  মহান পুরুষ,
সৃষ্টি সুখের উল্লাসে কাঁপা –
স্বাধীনতা তুমি 
শহীদ মিনারে অমর একুশে ফেব্রুয়ারির উজ্জ্বল সভা।

একদিন যারা ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, যারা শোষণ মুক্ত  বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং বাঙালি জাতির চোখে স্বপ্নে আবেশ ছড়িয়ে মুক্তি সংগ্রামের কণ্টকাকীর্ণ পথ চলায় অনুপ্রাণিত করেছিলেন, তারা আজ আর নেই। তাঁদের সেই স্বপ্ন ও আদর্শ আজ স্বার্থ ও লােভের চোরাবালিতে বিলীন হয়ে গেছে। স্বাধীনতার চার দশক পরও আমাদের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটেনি। তারপরও সকল ব্যর্থতা ও গ্লানি মুছে ফেলে সুখী-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে- এটাই সকলের কামনা। আজও বাংলার মানুষ স্বপ্ন দেখছে নতুন প্রভাতের, নতুন জাগরণের, নতুন সূর্যের।


#বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ প্রবন্ধ রচনা
#বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ রচনার পয়েন্ট
#বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস pdf
#বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রশ্ন
#বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান
#বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ অনুচ্ছেদ
#অনুচ্ছেদ রচনা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
#মুক্তিযুদ্ধ কি
#মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর
#মুক্তিযুদ্ধের সারসংক্ষেপ
#মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক রচনা ৪র্থ ৫ম ৬ষ্ঠ ৭ম ৮ম ৯ম ১০ম শ্রেণী


 এই রকম আরও তথ্য পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন। এর পাশাপাশি গুগল নিউজে আমাদের ফলো করুন। 

Rimon

This is RIMON Proud owner of this blog. An employee by profession but proud to introduce myself as a blogger. I like to write on the blog. Moreover, I've a lot of interest in web design. I want to see myself as a successful blogger and SEO expert.

5 Comments

  1. আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।এতো সুন্দর করে রচনাটি ব্যাখ্যা করার জন্য। খুব সুন্দর হয়েছে। আমার খুব ভালো লাগছে। আশা করি এরকম করে সব রচনা গুলো আমাদের মাঝে তুলে ধরবেন।

মন্তব্য করুন

Related Articles

Back to top button