২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের “ব্যবসায় উদ্যোগ” পঞ্চম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর। তোমাদের পাঠ্য বইয়ের তৃতীয় অধ্যায় আত্মকর্মসংস্থান থেকে এই অ্যাসাইনমেন্টটি দেওয়া হয়েছে। অ্যাসাইনমেন্ট লেখার আগে অবশ্যই মূল্যায়ন নির্দেশনা ভালো করে পড়ে নিবে এরপর উত্তর লিখবে।
অ্যাসাইনমেন্ট শিরোনামঃ বাংলাদেশের বেকারত্ব নিরসনে আত্মকর্মসংস্থানের ভূমিকা নিরূপণ।
নিধারিত কাজঃ
ব্যবসায় উদ্যোগ – এসএসসি ২০২১ পঞ্চম সপ্তাহ অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর
নিজস্ব পুঁজি অথবা ঋণ করা স্বল্প সম্পদ, নিজস্ব চিন্তা, জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা ও দক্ষতাকে। কাজে লাগিয়ে নূন্যতম ঝুঁকি নিয়ে আত্ম প্রচেষ্টায় জীবিকা অর্জনের ব্যবস্থাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে। জীবিকা অর্জনের বিভিন্ন পেশার মধ্যে আত্মকর্মসংস্থান একটি জনপ্রিয় পেশা। আমাদের চারপাশে এমন অনেক আত্মকর্মসংস্থানমূলক কর্মকান্ড দেখা যায়। কলেজ গেইটের পাশে যে চানাচুর বা আমড়া বিক্রি করে সেটিও তাদের আত্মকর্মসংস্থান। এরকম নানাবিধ জীবিকার উপায় আত্মকর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। হাঁস-মুরগি পালন, নার্সারি, ফুলের চাষ, বেতের সামগ্রি তৈরি, টেইলারিং ও মৌমাছি চাষ ইত্যাদি আত্মকর্মসংস্থানের আওতাভুক্ত।
জামালপুরের আমিনুল ইসলাম কয়েক বছর ধরে ছোট এটি প্রতিষ্ঠানে কম বেতনে চাকরি করে। অল্প টাকায় সংসার চালনো কষ্টসাধ্য তাই সে চিন্তা করল চাকরি ছেড়ে দিয়ে নিজের যে জমি রয়েছে তাতে কৃষিকাজ করবে। আমিনুল কৃষিকাজে খুব দক্ষ না হলেও অনেক কিছুই সে জানে। তাই সে তার মেধা ও জমানো কিছু টাকাকে পুজি করে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি চাষ শুরু করল। মাস দুই এক পর সে স্থানীয় বাজারে ভালো দামে পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে শাকসবজি বিক্রি করে অনেক মুনাফা অর্জন করল। আমিনুল আত্মকর্মসংস্থানে মাধ্যমে এখন সাবলম্বী।
আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে একদিকে যেমন নিজ মালিকানায় বা ব্যবস্থাপনায় ব্যবসা পরিচালনা করে অর্থ উপার্জন করা যায়। অন্যদিকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা যায়। তবে সব ব্যবসায় বা আত্মকর্মসংস্থান যে লাভজনক না কিন্তু নয়। তাই চাহিদা আছে এমন উৎপাদন বা সেবা বেঁছে নিতে হবে। নিচে আত্মকর্মসংস্থানের উপযুক্ত ও লাভজনক ক্ষেত্রগুলো ছক আকারে তুলে ধরা হলঃ
ব্যক্তিগত দক্ষতা এবং ইচ্ছা শক্তি উভয়ই আত্মকর্মসংস্থানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দেশের চাকুরির সুযোগ সীমিত এবং সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্টপোষকতায় অধিক লোকের কর্মসংস্থান দেওয়া সম্ভব নয়। তাই নিজেই নিজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই হচ্ছে একমাত্র বিকল্প পন্থা। অন্যদিকে তরুণ সমাজের কাছে আত্মকর্মস্থানের গ্রহণযোগ্যতা কম। এবং অনেকের কাছে আত্মকর্মস্থানের প্রকৃত ধারনা নেই। তাই বর্তমান তরুন যুবসমাজকে আত্মকর্মসংস্থানে উদ্বুদ্ধকরণে নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা জরুরিঃ
- প্রথমে তরুন যুবসমাজকে এবং শিক্ষার্থীদেরকে অনুপ্রানিত করতে হবে। তাদেরকে বুঝাতে হবে কোন কাজ ছোট বা অসম্মানের নয়।
- যারা আত্মকর্মসংস্থান করে স্বাবলম্বী হয়েছে তাদেরকে যুব সমাজের সামনে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে অন্যদেরকে আত্মকর্মসংস্থানে উৎসাহিত করতে হবে।
- আত্মকর্মসংস্থানের লাভজনক ক্ষেত্রগুলোর তালিকা বানিয়ে তা নিজ নিজ এলাকায়, বিদ্যালয়ে, ইউনিয়ন পরিষদের দেয়ালে লাগিয়ে প্রচার করতে হবে।
- শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের পাঠদানের পাশাপাশি বৃত্তিমুলক, কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষাকে পাঠদানের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
- সহজ শর্তে ঋণ এবং ঋণের প্রাপ্যতা নিশ্চিতকরণে যুব উন্নয়ন ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসতে হবে।
- প্রিন্ট মডিয়া অর্থাৎ দৈনিক পত্রিকাসহ সবধরনের খবরের কাগজে আত্মকর্মসংস্থানের সফল কাহিনী ব্যাপকভাবে প্রচারের ব্যবস্থা করতে হিবে।
- সম্পদের সুষ্ঠু ব্যাবহারঃ আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে সম্পদের সুষ্ঠু ব্যাবহার করা যায়। যেমনঃ অন্যের অধিনস্ত না হয়ে নিজের খালি জমিতে চাষাবাদ করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া যায়।
- বেকারত্ব দূরীকরণঃ দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে আত্মকর্মসংস্থান মুখ্য ভূমিকা পালন করে। সরকারের পক্ষে বিপুল সংখ্যক বেকার গোষ্ঠীকে চাকুরি দেওয়া সম্ভব না। তাই নিজেই নিজের কর্মসংস্থান দেশের বেকার সমস্যা অনেকাংশে দূর করে।
- অর্থনৈতিক উন্নয়নঃ আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে দেশের বিপুলসংখ্যক বেকার জনগােষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযােগ সৃষ্টি হবার পাশাপাশি দেশের জনশক্তির সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে।
- দারিদ্র্য দূরীকরণঃ আমাদের দেশে অধিকাংশ মানুষ দারিদ্রতার মধ্যে জীবন-যাপন করে। দারিদ্র্যের কারণে তারা জীবন ধারণের মৌলিক চাহিদাগুলাে পূরণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাদের দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব ।
- যুব সমাজের দেশেপ্রেমে উদ্বুদ্ধকরণঃ আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে দেশের বিপথগামী যুব সমাজ দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবে। তারা নিজেদের অবস্থার উন্নতি করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে।
- শহরমুখী জনস্রোত নিয়ন্ত্রণঃ কর্মসংস্থানের সুযােগ না থাকায় গ্রামের লােকজন শহর অভিমুখে যাত্রা করে। শহরেও তাদের কর্মসংস্থানের তেমন সুযােগ নেই । আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে এ প্রবণতার অবসান ঘটবে।
- সামাজিক অপরাধ রােধঃ কর্মসংস্থানের সুযােগ না থাকায় বেকার যুব সমাজ অপরাধমূলক কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে। সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা তাতে বিঘ্নিত হয় । আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে বিপথগামী যুব সমাজকে সমাজের উন্নতিতে কাজে লাগানাে সম্ভব হবে।
অতএব, আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে দেশের বেকার সমস্যাই শুধু দূর হবে না, এর মাধ্যমে যেমন সমাজের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা পাবে তেমনি দেশেরও অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটবে।
এই ছিল তোমাদের ব্যবসায় উদ্যোগ সপ্তাহ অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর। আশা করি উত্তরটি তোমাদের ভালো লেগেছে। তোমারা চেষ্টা করবে নিজে নিজে অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর লিখার।
এই রকম আরও তথ্য পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন। এর পাশাপাশি গুগল নিউজে আমাদের ফলো করুন।
accounting কখন পাওয়াযাবে