ইসলাম ও জীবনদোয়া

আল্লাহর কাছে পছন্দনীয় শ্রেষ্ঠ কিছু যিকির ও দোয়া

4/5 - (46 votes)

মহান আল্লাহপাক তাঁর বান্দাদের জন্য  যখন তখন সারাক্ষণ নেক আমলের সুবর্ণ সুযোগ করে দিয়েছেন। যুগে যুগে আল্লাহ প্রেমিকরা আল্লাহর যিকিরে সাড়া দিয়ে সর্বক্ষণ অন্তরে আল্লাহর নাম স্মরণ করে সাধনা করেছেন। যথাসম্ভব জিহ্বা দিয়ে তাঁর যিকির করেছেন ও কাজের মধ্যে ও আল্লাহর সচেতনতাকে ধারণ করেছেন। বিনিময়ে তারা আল্লাহর সান্নিধ্যে ধন্য হয়েছেন। এভাবে আল্লাহকে অধিক হারে স্মরণের মধ্যে দিয়ে যে কেউ কিয়ামতের দিন আল্লাহর সবচেয়ে নৈকট্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতে পারে। আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য অসংখ্য যিকির ও দোয়া রয়েছে। আল্লহর কাছে পছন্দনীয় শ্রেষ্ঠ কিছু যিকির ও দোয়া নিচে দেওয়া হলঃ

১। রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেন, আল্লহর নিকট সর্বাপেক্ষা প্রিয় বাক্য চারটি। আর এই চারবাক্য পাঠ করা তাঁর কাছে সমগ্র পৃথিবী অপেক্ষা প্রিয়।

ক) “সুব হা-নাল্লাহ”
খ) “আল-হামদুলিল্লাহ্‌”
গ) “লা-ইলাহ ইল্লাল্লা-হ”
ঘ) “আল্লাহু আকবার”
(মুসলিম হাদিস নং ৩৯৮৫)

এ বাক্যগুলো একত্রে এবং আলাদা আলাদা ভাবে বলা যায়। 

২। রাসুলুল্লাহ (সঃ) প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর ও ঘুমানোর পূর্বে সুব হা-নাল্লাহ ৩৩ বার, আল-হামদুলিল্লাহ্‌ ৩৩ বার এবং আল্লাহু আকবার ৩৪ বার পড়তে বলেছেন। 

৩। রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেন, শ্রেষ্ঠ যিকির হল, লা-ইলাহা ইল্লাল্লা-হ, শ্রেষ্ঠ দোয়া হল, আল-হামদুলিল্লাহ্‌। যে ব্যক্তি প্রত্যহ ১০০ বার সুব হা-নাল্লাহ বলবে তাঁর জন্য একহাজার গুনাহ ক্ষমা করা হবে।

৪। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ দুটি কাজ এমন যে মুখে উচ্চারণ করা অতি সহজ, পাল্লায় অনেক ভারী। আর আল্লাহ্র‌ নিকট অতি প্রিয়। তা হল, সুবহা-নাল্লা-হি, ওয়া বিহামদিহি- সুবহা-নাল্লাহিল আযীম। (বুখারী হাদিস নং ৫৯৫১, মুসলিম হাদিস নং ৬৬০১)।

নিচে আরও কিছু যিকির ও দোয়া দেওয়া হল যা ১ মিনিটের মধ্যেই পড়া যায়।

৫। মাত্র ১ মিনিটে আপনি ১০০০ বারের বেশি আস্তাগফিরুল্লা-হ যিকিরটি পাঠ করতে সক্ষম হবেন, (ইনশাআল্লাহ)। এই যিকিরটির দ্বারা আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে মাগফিরাত লাভ হবে, জান্নাত লাভ হবে এবং আপনার সব ধরনের শক্তি বাড়বে।

৬। মাত্র ১ মিনিটে আপনি ৫০ বার রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর জন্য দুরুদ ও সালাম আল্লাহুম্মা সল্লিআলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ পাঠ করতে সক্ষম হবেন, (ইনশাআল্লাহ)। এই আমলের সওয়াব হিসাবে আল্লাহপাক আপনার জন্য ৫০০ বার রহমত নাযিল করবেন। 

৭। মাত্র ১ মিনিটে আপনি ৪০ বার সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী, সুবহানাল্লাহিল আযীম যিকিরটি করতে সক্ষম হবেন, ইনশাআল্লাহ। এই আমলটি উচ্চারণ করতে হালকা, কিন্তু আখেরাতে আপনার যাবতীয় আমল ওজন দেয়ার জন্য দাড়ি পাল্লাতে রাখা হলে এ আমলটি বেশী ভারী হবে। (বুখারী হা: ৭৫৬৩, মুসলিম হা: ৩১-(২৬৯৪),৪(২০৭২)।

৮। মাত্র ১ মিনিটে আপনি ১৫ বার একইসাথে সুবহানাল্লাহ, আল-হামদুলিল্লাহ্, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবর, যিকিরটি করতে সক্ষম হবেন, ইনশাআল্লাহ।

ফযীলতঃ

  • সুবহানাল্লাহঃ এক শতবার পাঠ করলে এক হাজার নেকী অর্জিত হবে এবং এক হাজার গুনাহ মাফ হবে । (সহীহ মুসলিম যিকির, দোয়া হা: নং ৬৬০৭।)
  • আল-হামদুলিল্লাহঃ পাঠ করলে নেকীর পাল্লা ভরে যায়। (সহীহ মুসলিম, পবিত্রতা অধ্যায়, ১-২২৩,১/২০৩ নং হাদীসের অংশ বিশেষ:)
  • লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহঃ সর্বোত্তম জিকির। (সহীহ সুনানে তিরমিযী ৩/১৪০)।

৯। মাত্র ১ মিনিটে আপনি ২৫ বার লা হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ যিকিরটি পাঠ করতে সক্ষম হবেন, ইনশাআল্লাহ। এ যিকিরটি জান্নাতের গুপ্তধন ভান্ডারের মধ্য হতে একটি গােপন ধনভান্ডার। (সহীহ মুসলিম, যিকির দোয়া, হাদীস নং ৪৭-(২৭০৪),৪/২০২৮।)

১০। মাত্র ১ মিনিটে আপনি ১০ বার লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা- শারীকালাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলা-কুল্লি শাইয়িন ক্বদী-র। যে ব্যক্তি দিনে ১০০ বার এ দোয়াটি পাঠ করবে, সে দশটি গােলাম মুক্ত করার সওয়াব পাবে, তার আমল নামায় একশত নেকী লিপিবদ্ধ হবে এবং তা থেকে একশত গুনাহ নিশ্চিহ্ন করা হবে। আর সেদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত শয়তানের প্রভাব থেকে নিরাপদ থাকবে। (তিরমিযী)।

১১। মাত্র ১ মিনিটে আপনি পবিত্র কুরআনের যে কোন সুরার কয়েকটি আয়াত পাঠ করতে পারেন । ইনশাআল্লাহ।

১২। আপনি যে কাউকে ভালাে কাজের পরামর্শ দিতে পারেন এবং খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য বলতে পারেন। যে কোন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ব্যক্তিকে সান্তনা দিতে পারেন, অথবা রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দিতে পারেন, অথবা কিছু সংখ্যক মানুষের সাথে মুসাফাহা করতে পারেন। আর এর প্রত্যেকটি কাজে আপনার মাত্র ১ মিনিট করে সময় লাগবে। অল্প সময়ের এই ধরনের সৎকর্মে আপনি প্রচুর নেকী অর্জন করতে পারেন। ইনশাআল্লাহ।

আমারা চাইলেই পাঁচ ওয়াক্তের বেশি সালাত আদায় করতে পারব না। কারণ আল্লাহপাক আমাদের জন্য দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের বিধান করে দিয়েছেন। কিন্তু আমরা চাইলে যতখুশি যিকির ও দোয়া করতে পারি। আল্লাহ তায়ালা কিছু জিকিরকে অত্যন্ত পছন্দ করেন। বিধায় যখনই সময় পাওয়া যায় তখন, কিংবা হাঁটা-চলা অবস্থায় বা গাড়ীতে বসা অবস্থায়, অথবা শােয়া বা দাঁড়ানাে অবস্থায়, অথবা কারাে জন্যে অপেক্ষায় বা কোন কাজের জন্যে লাইনে দাঁড়ানাে অবস্থায়, উল্লেখিত জিকিরগুলাে অনায়াসে করতে পারেন। যা করার জন্য ওযুর প্রয়োজন নেই, নেই কোনকষ্ট, নেই পরিশ্রম।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্‌ বলেছেনঃ  

“তােমরা আমাকে স্মরণ কর, আমি তােমাদেরকে স্মরণ করব।”(সুরা বাকারা আয়াত :১৫২)।

দুনিয়া ও আখেরাতে শান্তি এবং মুক্তির অন্যতম উপায় হচ্ছে অন্তরে আল্লাহর যিকির।

বেশী বেশী করে মহান আল্লাহর জিকির করার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ পাক বলেন, 

“হে ঈমানদার, তােমরা আল্লাহকে অধিক স্মরণ করবে এবং সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করবে।” (সুরা আযহাব আয়াত, ৪১-৪২)।

সদা সর্বদা আল্লাহর জিকির করার নির্দেশ দিয়ে মহান আল্লাহ বলেন, 

“তােমার প্রতিপালককে মনে মনে সবিনয় ও সশঙ্কচিত্তে অনুচ্চ স্বরে প্রত্যয়ে ও সন্ধ্যায় স্মরণ করবে এবং তুমি উদাসীন হবে না।”(সুরা তহা,আয়াত, ১৪)। 

আল্লাহর রাসুল (সঃ) যিকিরের গুরুত্ব উপলব্ধি করে সকল অবস্থায়ই আল্লাহর যিকির করতেন। হযরত আয়েশা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসুল (সঃ) সকল অবস্থায় যিকির করতেন।(মুসলিম)।

সকাল ও বিকালে কি কি যিকির ও দোয়া করবেন তা জানতে এই লিখাটি পড়তে পারেন। 

যিকিরের ফজিলত সম্পর্কে জানতে এই লিখাটি পড়তে পারেন

লিখাটি অনেক সময় নিয়ে লিখেছি। আপনারদের ভালো লাগলে অবশ্যই সকলের মাঝে শেয়ার করে অন্যদেরকেও আমল করার সুযোগ করে দিবেন। ইনশাআল্লাহ।

Rimon

This is RIMON Proud owner of this blog. An employee by profession but proud to introduce myself as a blogger. I like to write on the blog. Moreover, I've a lot of interest in web design. I want to see myself as a successful blogger and SEO expert.

মন্তব্য করুন

Related Articles

Back to top button