Uncategorized

“পৌরনীতি ও নাগরিকতা” এসএসসি ২০২১ ষষ্ঠ সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট

Rate this post
২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের "পৌরনীতি ও নাগরিকতা" ষষ্ঠ সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট এর উত্তর।

২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের “পৌরনীতি ও নাগরিকতা” ষষ্ঠ সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট এর উত্তর। 

অ্যাসাইনমেন্ট নম্বরঃ ৪
অধ্যায়ঃ  ষষ্ঠ
অধ্যায়ের শিরোনামঃ বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা

অ্যাসাইনমেন্ট শিরোনামঃ বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামাে (কেন্দ্রীয় প্রশাসন ও মাঠ প্রশাসন) বিশ্লেষণ।


নিধারিত কাজঃ

"পৌরনীতি ও নাগরিকতা" এসএসসি ২০২১ ষষ্ঠ সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট



(ক) বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামােঃ

রাষ্ট্রের শাসনকার্য পরিচালনার দায়িত্ব প্রশাসনের। রাষ্ট্রের ভিতরে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও রাষ্ট্রের সমৃদ্ধির লক্ষ্যে সুষ্ঠু প্রশাসনের কোনাে বিকল্প নেই।এ কারণে প্রশাসনকে রাষ্ট্রের হৃৎপিন্ড বলা হয় । প্রশাসন একটি নির্দিষ্ট কাঠামাের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। নিচে বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামাে ছকের সাহায্যে তুলে ধরা হলােঃ

"পৌরনীতি ও নাগরিকতা" এসএসসি ২০২১ ষষ্ঠ সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট

বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামাে স্তরভিত্তিক। এর দুটি প্রধান স্তর আছে। প্রথম স্তরটি হলাে কেন্দ্রীয় প্রশাসন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের দ্বিতীয় স্তরটি হলাে মাঠ প্রশাসন। মাঠ প্রশাসনের প্রথম ধাপ হলাে বিভাগীয় প্রশাসন। দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে জেলা প্রশাসন। জেলার পর আছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা প্রশাসন একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত।

দেশের সব ধরনের প্রশাসনিক নীতি ও সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গ্রহণ করা হয়। আর কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গৃহীত নীতি ও সিদ্ধান্ত মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে সারা দেশে বাস্তবায়িত হয়। মাঠ প্রশাসন মূলত কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়ে থাকে। এছাড়া প্রতি মন্ত্রণালয়ের সাথে সংযুক্ত আছে বিভিন্ন বিভাগ বা অধিদপ্তর। অধিদপ্তর/দপ্তরের প্রধান হলেন মহাপরিচালন/পরিচালক। মন্ত্রণালয়ের অধীনে আরও আছে বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত বা আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, বাের্ড ও কর্পোরেশন। এসব দপ্তর ও অফিসের কোনাে কোনােটির কার্যকলাপ আবার বিভাগ জেলা ও উপজেলা পর্যন্ত বিস্তৃত। দপ্তর/অধিদপ্তরগুলাে সচিবালয়ের  লাইন সংস্থা হিসেবে বিভিন্ন সরকারি কাজ বাস্তবায়নে দায়িত্ব পালন করে।

(খ) বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রশাসন বিশ্লেষণঃ
সচিবালয় কেন্দ্রীয় প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু। দেশের সকল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এখানে গৃহীত হয়। সচিবালয় কয়েকটি মন্ত্রণালয় নিয়ে গঠিত। এক একটি মন্ত্রণালয় এক একজন মন্ত্রীর অধীনে ন্যস্ত। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে একজন সচিব আছেন। তিনি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক প্রধান এবং মন্ত্রীর প্রধান পরামর্শদাতা। মন্ত্রণালয়ের সকল প্রশাসনিক ক্ষমতা সচিবের হাতে। মন্ত্রীর প্রধান কাজ প্রকল্প প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণ। আর মন্ত্রীকে নীতি নির্ধারণে ও শাসনকার্যে সহায়তা করা এবং এসব নীতি বাস্তবায়নের দায়িত্ব সচিবের।
"পৌরনীতি ও নাগরিকতা" এসএসসি ২০২১ ষষ্ঠ সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট

অতিরিক্ত সচিব মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা। তিনি সচিবকে বিভিন্ন দায়িত্ব পালনে সহায়তা করেন। কোনাে মন্ত্রণালয়ে সচিব না থাকলে তিনি সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। মন্ত্রণালয়ের প্রতিটি অণুবিভাগ জন্য একজন করে যুগ্ম সচিব থাকেন। তিনি সচিবকে বিভিন্ন কাজে সহায়তা করেন। মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী এবং অফিস ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেন। মন্ত্রণালয়ের এক বা একাধিক শাখার দায়িত্বে থাকেন একজন উপসচিব। তিনি বিভিন্ন বিষয়ে নীতি নির্ধারণে যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিবকে পরামর্শ দেন ও সহযােগিতা করেন।
(গ) জেলা প্রশাসনের কার্যবলিঃ

 জেলা প্রশাসন মাঠ বা স্থানীয় প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর। এর প্রধান নির্বাহী কর্মমর্তা হলেন জেলা প্রশাসক। দেশের সব জেলায় একজন করে জেলা প্রশাসক আছেন। তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের একজন অভিজ্ঞ সদস্য। তাকে কেন্দ্র করে জেলার সকল সরকারি কাজ পরিচালিত হয়। জেলা প্রশাসনের কার্যবলি সম্পর্কে আলোচনা করা হলঃ

১. প্রশাসনিক কাজঃ জেলা প্রশাসক কেন্দ্র থেকে আসা সকল আদেশ-নির্দেশ ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেন। জেলার বিভিন্ন অফিসের কাজ তদারক ও সমন্বয় করেন। জেলার বিভিন্ন শূন্য পদে লােক নিয়ােগ করেন।
২. রাজস্বসংক্রান্ত ও আর্থিক কাজঃ জেলা প্রশাসক জেলা কোষাগারের রক্ষক ও পরিচালক জেলার সব ধরনের রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব তার, সে কারণে তিনি কালেকটর নামে পরিচিত। এছাড়া তিনি ভূমি উন্নয়ন, রেজিস্ট্রেশন ও রাজস্বসংক্রান্ত বিবাদ মীমাংসা করে থাকেন। 
৩. আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাসংক্রান্ত কাজঃ জেলার মধ্য শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের জীবনের নিরাপত্তা প্রদানের দায়িত্ব তার উপর ন্যস্ত। তিনি পুলিশ প্রশাসনের সাহায্যে এ দায়িত্ব পালন করে থাকেন। 
৪. উন্নয়নমূলক কাজঃ জেলা প্রশাসক জেলার সার্বিক উন্নয়নের চাবিকাঠি। জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূল কাজ (শিক্ষা, কৃষি, শিল্প, রাস্তাঘাট ও যােগাযােগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ইত্যাদি) বাস্তবায়নের দায়িত্বও তাঁর। তিনি জেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থতদের সাহায্য ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন। 
৫. স্থানীয় শাসনসংক্রান্ত কাজঃ জেলা প্রশাসক স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলাের (উপজেলা পরিষদ পৌরসভা, ইউনিয়ন) কাজ তত্ত্বাবধান করেন। তিনি জেলার অধীনস্থ সকল বিভাগ ও সংস্থার কাজের সমন্বয় করেন।
জেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ ব্যক্তি হিসেবে তিনি আরও অনেক দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জেলার সংবাদপত্র ও প্রকাশনা বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করেন। বিভিন্ন জিনিসের লাইসেন্স দেন। জেলার বিভিন্ন বিষয়ের তথ্য সংগ্রহ করেন এবং সে সম্পর্কে সরকারকে অবহিত করেন। জেলা প্রশাসকের ব্যাপক কাজের জন্য তাকে জেলার ‘মূল স্তম্ভ’ বলা হয়। তিনি শুধু জেলা প্রশাসক নন। তিনি জেলার সেবক, পরিচালক এবং বন্ধুও বটে।

 এই রকম আরও তথ্য পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন। এর পাশাপাশি গুগল নিউজে আমাদের ফলো করুন। 

Rimon

This is RIMON Proud owner of this blog. An employee by profession but proud to introduce myself as a blogger. I like to write on the blog. Moreover, I've a lot of interest in web design. I want to see myself as a successful blogger and SEO expert.

মন্তব্য করুন

Back to top button