Uncategorized

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এসএসসি ২০২২ | দ্বিতীয় সপ্তাহ অ্যাসাইনমেন্ট ২০২১ এর উত্তর

 বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এসএসসি ২০২২ | দ্বিতীয় সপ্তাহ অ্যাসাইনমেন্ট ২০২১ এর উত্তর

মুজিবনগর সরকার গঠন ও শপথের তারিখ, মুজিবনগর সরকারের কার্যক্রম, মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ জনগণ ও পেশাজীবীদের ভূমিকা, স্বাধীনতা অর্জনে তৎকালীন সরকারের রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অবদান

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এসএসসি ২০২২ | দ্বিতীয় সপ্তাহ অ্যাসাইনমেন্ট ২০২১ এর উত্তর


নির্ধারিত কাজ

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এসএসসি ২০২২ | দ্বিতীয় সপ্তাহ অ্যাসাইনমেন্ট ২০২১ এর উত্তর


নমুনা উত্তর

মুক্তিযুদ্ধের জনমত সৃষ্টি, শরণার্থীদের ব্যবস্থাপনা ও যুদ্ধের রণকৌশল নির্ধারণে মুজিবনগর সরকার যে ভূমিকা পালন করেছে তা বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক অনন্য গৌরবগাঁথার স্বাক্ষর হয়ে থাকবে। বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় ১৭ এপ্রিল এক স্মরণীয় দিন। মুজিবনগর সরকার পরিচালনার মাধ্যমে ৯ মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতা অর্জিত হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের মাধ্যমে পাকিস্তানি শোষক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মুক্তিসংগ্রামের যে পথ চলা শুরু হয়, ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠনের মাধ্যমে তা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে।

মুজিবনগর সরকার গঠন ও শপথের তারিখ:
১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা হয় কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমা (বর্তমানে জেলা) বৈদ্যনাথতলার অন্তর্গত ভবেরপাড়া (বর্তমান মুজিবনগর) গ্রামে। বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে স্থানটির নামকরণ হয় মুজিবনগর। শেখ মুজিবুর রহমান এর অনুপস্থিতিতে তাকে রাষ্ট্রপতি করে সরকার গঠন করা হয়। অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম Syed Nazrul Islam এবং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব অর্পিত হয় তাজউদ্দিন আহমদের Tajuddin Ahmad উপর, এম. মনসুর আলী কে দেওয়া হয় অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব, খন্দকার মােশতাক আহমেদকে দেওয়া হয় আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব। বাংলাদেশের প্রথম সরকার দেশি-বিদেশি সাংবাদিকের সামনে ১৯৭১ সালের ১৭ই  এপ্রিল শপথ গ্রহণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব পালন শুরু করে। এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠের মাধ্যমে ২৬ মার্চ হতে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে ঘোষণা করা হয়।
এছাড়াও ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, ন্যাশনাল আওয়ামী পাটির অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ, কমরেড মনিসিং, জাতীয় কংগ্রেসের মনোরঞ্জন ধর, তাজউদ্দিন আহমেদ ও খন্দকার মোশতাক আহমেদ এই ৬ জন সদস্য উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য।
মুজিবনগর সরকারের কার্যক্রমঃ
মুজিবনগর সরকারের কার্যক্রম ছিল সুদূরপ্রসারী। মুজিবনগর সরকারের কার্যক্রমকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়-
ক) বেসামরিক কার্যক্রম
খ) সামরিক কার্যক্রম। 
প্রত্যেক দেশের শাসনব্যবস্থা পরিচালনার জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও এর অধীনে দপ্তর থাকে। মুজিবনগর সরকারেরও তা ছিল। এগুলাে হচ্ছে- প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র, অর্থ-শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয়, সাধারণ প্রশাসন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগ, প্রকৌশল বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশন, যুব ও অভ্যর্থনা শিবিরের নিয়ন্ত্রণ বাের্ড, সংস্থাপন, আঞ্চলিক প্রশাসন, তথ্য ও বেতার, স্বরাষ্ট্র, সংসদ বিষয়ক, কৃষি ইত্যাদি। বাংলাদেশকে ১১টি প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত করে সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্য বা আওয়ামী লীগ নেতাদের অঞ্চলগুলাের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধকালীন জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে নয় সদস্যবিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়। আওয়ামী লীগ নেতা ছাড়াও এর সদস্য ছিলেন প্রবীণ জননেতা ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) এর সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, কমিউনিস্ট পার্টি প্রধান মণি সিংহ, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) এর আরেক অংশের সভাপতি মােজাফফর আহমদ ও কংগ্রেস নেতা মনােরঞ্জন ধর। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মােজাফফর আহমদ চৌধুরীকে চেয়ারম্যান করে গঠিত হয় মুজিবনগর সরকারের পরিকল্পনা কমিশন। এই মুজিবনগর সরকারের অধীনে সুষ্ঠভাবে যুদ্ধ পরিচালনার ফলে ১৯৭১ সালের ১৬ই  ডিসেম্বরে বাংলাদেশর স্বাধীনতা অর্জনের পথ সুগম হয়। 
মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ জনগণ ও পেশাজীবীদের ভূমিকা
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জনগণ ও পেশাজীবী মানুষের ভূমিকা ছিল সর্বাধিক । দেশকে শত্রু মুক্ত করতে নিজ জীবন পরোয়া না করে যুদ্ধে নেমেছিল বাংলার ধামাল ছেলেরা। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্থানি বাহিনীরা যখন নিরস্র জনগনের উপর আক্রমণ চালিয়েছিল ঠিক তখনই তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল ছাত্র, জনতা, পুলিশ, ইপিআর । যুদ্ধে অনেকে শহীদ হয়েছিলেন এবং অনেকে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিলেন। ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৬৯ এর গণঅভ্যুথান, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে ছাত্র সমাজ ছিল তৎপর। মুক্তিযুদ্ধে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিল।  মুক্তিযুদ্ধে এভাবেই অংশগ্রহণ করেছিল ছাত্র সমাজ, নারী, গণমাধ্যম,  সাধারণ জনগনসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ । তাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এই স্বাধীনতা। তাদের এই ঋণ কোনদিন শোধ হবে না। 
স্বাধীনতা অর্জনে তৎকালীন সরকারের রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অবদান
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তৎকালীন যে রাজনৈতিক দলটির ভূমিকা সবচেয়ে বেশি ছিল তার নাম হল  বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের গতি প্রকৃর্তি নির্ধারণ করা হয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় আওয়ামী লীগ ছাড়াও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ন্যাপ( ভাসানী, মোজাফফর), কমিউনিস্ট পার্টি, জাতীয় কংগ্রেস ইত্যাদি। এছাড়া রাশিয়ার রাজনৈতিক দলের অবদান, চীনে পন্থী রাজনৈতিক দলের অবদান, ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের অবদান অস্বীকার করা যায় না। 


 এই রকম আরও তথ্য পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন। এর পাশাপাশি গুগল নিউজে আমাদের ফলো করুন। 

Google News

Rimon

This is RIMON Proud owner of this blog. An employee by profession but proud to introduce myself as a blogger. I like to write on the blog. Moreover, I've a lot of interest in web design. I want to see myself as a successful blogger and SEO expert.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles

Back to top button