নানান দেশের নানান ভাষা.. ভাবসম্প্রসারণ

    নানান দেশের নানান ভাষা বিনা স্বদেশি ভাষা পুরে কি আশা ভাবসম্প্রসারণ

    মূলভাব


    মানুষ জন্মের পরে মায়ের কাছ থেকে যে ভাষায় কথা বলতে শিখে সে ভাষাই তার মাতৃভাষা বা স্বদেশি ভাষা। স্বদেশি ভাষায় মনের ভাব যত সহজে প্রকাশ করা যায়, অন্য কোন ভাষায় তা সম্ভব নয়।

    সম্প্রসারিত ভাব

    বর্তমান পৃথিবীতে বিভিন্ন জাতি-গুষ্ঠির লোকের বসবাস করে। এদের কথাবার্তা, চালচলন, আচার-ব্যবহার একেক রকম। ভাষার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন দেশের লোক বিভিন্ন ভাষায় কথা বলে। আমরা বাঙালি, বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন দেশে আমাদের বসবাস। এদেশের প্রতিটি মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলে। সুতরাং বাংলা এদেশের স্বদেশি ভাষা। বাংলা ভাষায় কথা বলে এদেশের মানুষ সবচেয়ে বেশি তৃপ্তি পায়। পৃথিবীর এক দেশের মানুষের সাথে অন্য দেশের মানুষের চেহারার যেমন পার্থক্য রয়েছে, তেমনই ভাষারও অনেক পার্থক্য রয়েছে।

    চেহারার বৈচিত্র্যের মতো পৃথিবীতে রয়েছে নানা জাতির মানুষের নানা ভাষা। একেক দেশের মানুষ একেক ভাষায় কথা বলে। মানুষ যে দেশে জন্মগ্রহণ করে এবং মাতাপিতা যে ভাষা ব্যবহার করে, সেটাই তার স্বদেশি ভাষা। স্বদেশি ভাষার মাধ্যমেই মানুষ জ্ঞানের যাবতীয় বিষয় সবচেয়ে বেশি উপলব্ধি করতে এবং প্রকাশে সক্ষম। এমন অনেকে আছেন যারা স্বদেশি ভাষার সাথে অন্য ভাষাও আয়ত্ত করে থাকে। কিন্তু অন্য ভাষার কোন কিছু বুঝতে হলেও তা কেবল স্বদেশি ভাষার মাধ্যমেই বুঝতে হয়। কাজকর্মের সুবিধার্থে ক্ষেত্রবিশেষে স্বদেশি ভাষার বাইরে অন্য একাধিক ভাষায় কথা বললেও স্বদেশি ভাষায় কথা বলে মানুষ যত আত্মতৃপ্তি লাভ করে অন্য ভাষায় কথা বলে তা পায় না। তাছাড়া স্বদেশি ভাষাকে উপেক্ষা করে কেউ কোনােদিন তার প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারে না। মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। মূলত স্বদেশি ভাষা ভিন্ন অন্য ভাষায় কোন  আত্মতৃপ্তি পাওয়া যায় না। যারা দেশ ছেড়ে বিদেশে থাকে, বিদেশি ভাষায় কথা বলতে বাধ্য হলেও তাদের আত্মতৃপ্তি ঘটে স্বদেশি ভাষাভাষী মানুষের সাথে কথা বলেই। তাছাড়া। আত্মবিকাশে স্বদেশি ভাষার কোন বিকল্প নেই। মিল্টন পাহাড়ি ঝরনার কলধ্বনিতে স্বদেশি ভাষার সুর শুনতে পেতেন। স্বদেশি ভাষা মানবজীবনে, জাতীয় জীবনে অতি গুরুত্বপূর্ণ বলেই বাঙালিরা স্বদেশি ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছে।

    মন্তব্য


    স্বদেশি ভাষা পরিহার করে কোন ব্যক্তি বা জাতির পক্ষে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব নয়। তাই প্রত্যেকেরই উচিত, স্বদেশি ভাষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া।

    0 Comments