কোরবানির ফজিলত (পর্ব ৩)

    কোরবানির ফজিলত (পর্ব ৩)
    source: istockphoto

    প্রিয় পাঠক, আস-সালামুয়ালাইকুম। মহান আল্লাহপাক রাব্বুল আলামিনের অশেষ রহমতে আপনারা সবাই ভাল আছেন। কোরাবানি নিয়ে আজকের তৃতীয় পর্বে আলোচনা করবো কোরবানির ফজিলত সম্পর্কে। এর আগের দুই পর্বে আলোচনা করেছিঃ

    প্রিয় পাঠক, কোরবানির ফজিলত নিয়ে বলার আগে কোরবানির দিনটি বলা আবশ্যক। আসুন পবিত্র কুরানের ও হাদিসের আলোকে জেনে নেওয়া যাক কোরবানির দিনের ফজিলত সম্পর্কে।

    কোরবানির দিনের ফজিলতঃ

    (১) এ দিনের একটি নাম হল ইয়াওমুল হজ্জিল আকবর বা শ্রেষ্ঠ হজ্জের দিন। যে দিনে হাজীগণ তাদের পশু জবেহ করে হজ্জকে পূর্ণ করেন। হাদিসে এসেছে-
    ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোরবানির দিন জিজ্ঞেস করলেন এটা কোন দিন? সাহাবাগণ উত্তর দিলেন এটা ইয়াওমুন্নাহার বা কোরবানির দিন। রাসূলে কারীম (সঃ) বললেন : এটা হল ইয়াওমুল হজ্জিল আকবর বা শ্রেষ্ঠ হজের দিন। (আবু দাউদ ১৯৪৫, হাদিসটি সহিহ)

    (২) কোরবানির দিনটি হল বছরের শ্রেষ্ঠ দিন। হাদিসে এসেছেঃ
    আব্দুল্লাহ ইবনে কুর্ত (রঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলে কারীম (সঃ)  বলেছেন : আল্লাহর নিকট দিবস সমূহের মাঝে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ দিন হল কোরবানির দিন, তারপর পরবর্তী তিনদিন।(আবু দাউদ ১৮৬৫, হাদিসটি সহিহ)

    (৩) কোরবানির দিনটি হল ঈদুল ফিতরের দিনের চেয়েও মর্যাদাসম্পন্ন। কেননা এ দিনটি বছরের শ্রেষ্ঠ দিন। এ দিনে সালাত ও কোরবানি একত্র হয়। যা ঈদুল ফিতরের সালাত ও সদকাতুল ফিতরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আল্লাহ্‌  তাআলা তার রাসূলকে কাউসার দান করেছেন এবং এর শুকরিয়া আদায়ের জন্যে আল্লাহ তাকে কোরবানি ও সালাত আদায়ের নির্দেশনা দিয়েছেন।

    কোরবানির ফজিলতঃ

    (১) কোরবানি দাতা নবী ইবরাহিম (আঃ) ও মুহাম্মদ (সঃ) -এর আদর্শ বাস্তবায়ন করে থাকেন।
    (২) পশুর রক্ত প্রবাহিত করার মাধ্যমে কোরবানি দাতা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য অর্জন করেন। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন:
    আল্লাহর নিকট পৌছায় না তাদের গোশত এবং রক্ত, বরং পৌছায় তোমাদের  তাকওয়া। এভাবে তিনি এগুলােকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন যাতে তােমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘােষণা কর।  এজন্য যে, তিনি তােমাদের পথ-প্রদর্শন করেছে; সুতরাং আপনি সুসংবাদ দিন সৎকর্মপরায়ণদেরকে। (সূরা হজবঃ ৩৭)
    (৩) পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী ও অভাবীদের আনন্দ দান। আর এটা অন্য এক ধরনের আনন্দ যা কোরবানির গােশতের পরিমাণ টাকা যদি আপনি তাদের সদকা দিতেন তাতে অর্জিত হত না। কোরবানি না করে তার পরিমাণ টাকা সদকা করে দিলে কোরবানি আদায় হবে না।

    0 Comments