ভাবসম্প্রসারণ : সুজনে সুযশ গায় কুযশ ঢাকিয়া, কুজনে কুরব করে সুরব নাশিয়া

    সুজনে সুযশ গায় কুযশ ঢাকিয়া, কুজনে কুরব করে সুরব নাশিয়া - ভাবসম্প্রসারণ

    মূলভাব

    মহৎ লােকেরা অন্যের দোষ-ত্রুটি গােপন রেখে ভালাে দিকটি প্রকাশ করে থাকে। পক্ষান্তরে, হীন ব্যক্তিরা অন্যের ভালাে দিকটি গােপন রেখে মন্দ দিকটি প্রচার করে। 

    সম্প্রসারিত ভাব 

    মহাপুরুষ ব্যতীত কেউই দোষ-ত্রুটির উর্ধ্বে নয়। জীবন চলার পথে মানুষ অসংখ্য কাজ করে যার সবগুলাে সংগত হবে এমন কোনাে নিশ্চয়তা নেই। অনুরূপভাবে, মানুষের স্বভাব-চরিত্রের অনেক দিক আছে যা সবসময় ইতিবাচক নয়। মানুষের নামে দুর্নাম রটানাে ও ছিদ্রান্বেষণের মতাে ঘৃণ্য প্রবণতা অনেকেরই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। কিন্তু মানুষের কাজ অন্যের দোষ-ত্রুটি প্রচার করা নয়, বরং দোষ-ত্রুটি গােপন করা এবং প্রশংসনীয় বিষয়গুলাে প্রচার করা। অপরের দোষ কিংবা গুণের প্রচার করার মধ্য দিয়ে মানুষের নিজের ব্যক্তিসত্তার পরিচয় ফুটে ওঠে। কোনাে লােক যদি সর্বদা অন্যের দোষ-ত্রুটি খুঁজে বেড়ায়। এবং জোর গলায় তা প্রচার করে তাহলে তার সম্পর্কে মানুষের ধারণা মােটেই ইতিবাচক হয় না, বরং নিন্দুককে সবাই ঘৃণা করে। তার সংস্পর্শ সবাই এড়িয়ে চলে।
    আসলে নিন্দুকেরা এক ধরনের মানসিক বিকৃতির শিকার, যার ফলে তার চোখে মানুষের গুণগুলাে ধরা পড়ে না। অপরদিকে, যারা সদাচারী ও সুন্দর মনের অধিকারী তারা অপরের দোষগুলাে যথাসাধ্য লুকিয়ে রেখে সদগুণের প্রচারেই মুখর থাকে। এটাই সৎলােকের আদর্শ। অন্যের দোষ প্রচারের কাজকে ইসলাম ধর্মে ‘গীবত’ বলা হয়। গীবতকারীর কাজকে হাদিসে মৃত ভাইয়ের শরীরের মাংস ভক্ষণ করার মতাে ঘৃণ্য অপরাধ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অপরদিকে, হাদিসে এ কথাটিও বলা হয়েছে যে, যে ব্যক্তি অপরের একটি দোষ গােপন করে রাখবে আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার সত্তরটি দোষ লুকিয়ে রাখবেন। তারপরও আমাদের সমাজে পরচর্চা, পরনিন্দার প্রবণতা বেশি। পরের দোষ-ত্রুটি নিয়ে ঘাটাঘাটি করার ফলে সামাজিক পরিবেশ বিনষ্ট হয়। মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কে তিক্ততার সৃষ্টি হয়। তাই পরনিন্দার মতাে ঘৃণ্য প্রবণতা থেকে আমাদের সর্বদা দূরে থাকতে হবে। 

    মন্তব্য

    সংসারে সুজন ও কুজন বা ভালাে ও মন্দ উভয় শ্রেণির মানুষ বসবাস করে। আচার-আচরণ থেকে তাদেরকে শনাক্ত করে কুজনকে সর্বান্তঃকরণে পরিহার করে চলাই বুদ্ধিমানের সাজ।

    0 Comments