আয়াতুল কুরসীকে নতুন ভাবে জানা এবং আল্লাহ্‌র আঁটটি সিফাত বা গুন নিয়ে আলোচনা।

    পবিত্র কুরআনের দ্বিতীয় সূরা আল বাকরার ২৫৫ তম আয়াতটি Ayatul kursi (আয়াতুল কুরসি) নাম ডাকা হয়। আয়াতটি অধিক ফজিলতপূর্ণ। পবিত্র কুরআনের শ্রেষ্ঠতম আয়াত হলো আয়াতুল কুরসি। এ আয়াতি পাঠের মাধ্যমে অনেক ফজিলত হাসিল করা সম্ভব। আয়াতুল কুরসি তে আল্লাহতায়ালার আটটি সিফাত অথাৎ গুন বর্ণনা করা হয়েছে।

    আল্লাহ্‌র আটটি সিফাত অথাৎ গুন


    প্রথম সিফাত হলো, আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। তিনি চিরস্থায়ী। তিনি চিরঞ্জীব, আল্লাহ একজনই। তার কোনো শরীক নেই, অংশীদার নেই। তার মত বা তার সমকক্ষ কেউ নেই। তার সিংহাসন থেকে তিনি আসমান জমিন নভোমন্ডল, ভুমন্ডল সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ করে। 

    দ্বিতীয় সিফাত হলো, আল্লাহকে ঘুম ও তন্দ্রা কিছুই স্পর্শ করে না। 

    তৃতীয় সিফাত হলো, আসমান ও জমিনে যারা আছে সবাই আল্লাহর প্রশংসা করছে। বিশেষ করে যে পাখিরা দু'পাখা মেলে শুন্যে উড্ডীন হয়, তারাও আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করে এবং তারা আল্লাহর জন্যে সালতাহু সালাত আদায় করে। 

    চতুর্থ সিফাত হলো, এমন কে আছে আল্লাহর অনুমুতি ছাড়া তার কাছে সুপারিশ করতে পারে? সকল সেফায়েতের চাবিকাঠি আল্লাহর হাতে। তিনি এটা নিয়ন্ত্রণ করবেন। যে কেউ সুপারিশ করতে পারবে না। 
    পঞ্চম সিফাত হলো, গোপন ও প্রকাশ্যের সকল বিষয় আল্লাহ অবহিত আছেন। চোখের চুরি এবং অন্তরের গোপন কথাও আল্লাহ জানেন। দুনিয়ায় মানুষের চোখে ফাঁকি দেওয়া গেলেও আল্লাহ্‌র কাছ থেকে ফাঁকি দেওয়া অসম্ভব।

    ষষ্ঠ সিফাত হলো, আল্লাহ যতটুকু চেয়েছেন ততটুকুই আমাদের জ্ঞান দান করেছেন। এর বাইরে কোনো জ্ঞান আমাদেরকে দেওয়া হয় নি। সমস্ত জ্ঞানের মালিক হলেন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন।

    সপ্তম সিফাত হলো, আল্লাহর সেই কুরসী যা আসমান ও জামিন পরিবেষ্টন করে রেখেছে। সুতরাং আমরা সবাই আল্লাহর গন্ডির মধ্যে বসবাস করছি। এই বিশ্বাস রেখেই আমাদের চলতে হবে। 

    অষ্টম সিফাত হলো, এই সবকিছু পরিচালনা করতে কখনো ক্লান্ত হয়ে যান না। অর্থাৎ আসমান ও জামিন থেকে শুরু করে নভোমণ্ডল ভূমণ্ডল যা কিছু আছে তা পরিচালনা করতে গিয়ে আল্ললাহ ক্লান্ত হয়ে যান না।

    0 Comments