সুন্দর অনুচ্ছেদ (Paragraph) লিখার কিছু নিয়ম ও বৈশিষ্ট্য

    জকে আমি আলোচনা করবো কিভাবে সুন্দর একটি অনুচ্ছেদ বা Paragraph লিখতে হয় এবং একটি সার্থক অনুচ্ছেদের কি কি বৈশিষ্ট্য থাকে তা নিয়ে। অনুচ্ছেদ  যদি সুন্দর ও সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা না যায় তবে তা শ্রোতাদের মনকে আকৃষ্ট করতে পারে না।  অপরদিকে একটি সুন্দর অনুচ্ছেদ যেমন শুনতে বা পড়তে পাঠকের মনকে আন্দোলিত করে অন্যদিকে এর প্রভাব ও সমাজে পরিলক্কিত হয়।  আসুন সবার আগে জেনে নেই অনুচ্ছেদ  বা Paragraph কী?

    অনুচ্ছেদ  বা Paragraph কী?
    অনুচ্ছেদ হলো কিছু শৃঙ্খল অন্তর্ভুক্ত বাক্যের সমষ্টি। যেখানে একটি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোকপাত করা হয়। অন্যভাবে বলতে গেলে অনুচ্ছেদ হলো একটি নির্দিষ্ট বিষয়বস্তুর উপর নির্মিত কিছু বাক্যের সমষ্টি। একটি নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু নিয়ে আলোকপাত করাই হলো অনুচ্ছেদের প্রধান কাজ। একটি সার্থক অনুচ্ছেদ পাঠককে সুনির্দিষ্ট ধারণা দিয়ে থাকে। তাই একটি সার্থক অনুচ্ছেদের কিছু বৈশিষ্ট্য থাকা প্রয়োজন। আসুন জেনে নেই একটি সার্থক অনুচ্ছেদ এর কিছু বৈশিষ্ট্য।

    সার্থক অনুচ্ছেদ লিখার নিয়ম ও এর কিছু বৈশিষ্ট্য:
    দি কাঠামোগত দিক দিয়ে বিবেচনা করা যায় তাহলে, একটি সার্থক  অনুচ্ছেদে পাঁচটি প্রধান বাক্য থাকাই যথেষ্ট। 
    পাঁচটি প্রধান বিষয়গুলো হলো:  একটি বিযয় বাক্য, তিনটি সমর্থনকারী বাক্য এবং একটি সমাপ্ত বাক্য। তবে এই পাঁচটি প্রধান বিষয়গুলো বিবেচনায় এনে একটি সার্থক অনুচ্ছেদকে চারটি বৈশিষ্ট্যে ভাগ করা যায়। যেমন-
    [post_ads]
    ১। ঐক / বিষয় বাক্য : একটি অনুচ্ছেদ মূলত সুনির্দিষ্ট বিষয় বাক্য দিয়ে শুরু হয়। প্রতিটি অনুচ্ছেদে একটি একক ও নিয়ন্ত্রণকারী ধারণা রয়েছে যা অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তুতে প্রকাশিত হয়। একটি অনুচ্ছেদ সূচিত হয় তার প্রধান বা বিষয় বাক্য থেকেই। আর সমর্থনকারী বাক্যগুলো অনুচ্ছেদের বিষয় বাক্যকে বিস্তারিতভাবে পাঠকের সামনে তুলে ধরে।  সুতরাং অনুচ্ছেদের বিষয় বাক্য বা প্রধান বিষয়বস্তু সুনির্দিষ্ট হওয়া চাই।

    ২।  শৃঙ্খলা : শৃঙ্খলা বলতে অনুচ্ছেদের সমর্থনকারী বাক্যগুলো কিভাবে সাজাতে হবে তা বুঝায়। বাক্যের শৃঙ্খলা অনুচ্ছেদের অন্যমাত্রা নিয়ে আসে এবং পাঠক খুব সহজে অনুচ্ছেদটি বুঝতে পরে। আপনি অনুচ্ছেদে যত যুক্তি দেখান না কেন তা যদি সুশৃঙ্খল না হয় তাহলে তার অর্থ পাঠক উপলব্ধি করতে পারবে না।  তাই পাঠকের বিভ্রান্তি এড়াতে আপনার সমর্থনকারী বাক্যগুলো সুশৃঙ্খল হওয়া চাই।

    ৩। বোধগম্যতা : একটি সার্থক অনুচ্ছেদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর বোধগম্যতা। আপনি বিষয়বস্তু থেকে শুরু করে সমর্থনকারী বাক্য পর্যন্ত যা যা বুঝাতে বা বলতে চেয়েছেন তা যেন পাঠকের বোধগম্য হয় সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। শব্দের বোধগম্যতা অর্জনের অন্যতম কৌশল রূপান্তর বা প্রচলিত শব্দ ব্যবহার করা।  অর্থাৎ যে শব্দগুলোর অর্থ পাঠক সহজেই বুঝতে পারবে।
    [post_ads_2]
    ৪। সম্পূর্ণতা : সম্পূর্ণতা মানে হলো অনুচ্ছেদের সু-বিকাশ হয়েছে। আপনার সমর্থনকারী বাক্য যদি সম্পূর্ণভাবে আপনার বিষয়বস্তুকে পুরোপুরিভাবে সমর্থন করে তবে বুঝতে হবে আপনার অনুচ্ছেদটি সম্পূর্ণতা লাভ করেছে। আর যদি এর উল্টো হয় তাহলে বুঝতে হবে অনুচ্ছেদটি স্বয়ংসম্পূর্ণ হয় নি।  আগেই বলেছি একটি সার্থক অনুচ্ছেদের একটি বিষয় বাক্য  ও একটি সমাপ্ত বাক্য ছাড়াও তিনটি সমর্থনমূলক বাক্য প্রয়োজন। অনুচ্ছেদের সমাপ্তি বাক্য বা শেষ বাক্যটি আপনার বিষয়ের বাক্যটিকে শক্তিশালী করে এবং সমর্থনমূলক বাক্যগুলোর সংক্ষিপ্তসার করে।  কাজেই অনুচ্ছেদের শেষ বাক্যটির দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

    উপরের এই চারটি দিকের উপর ভিত্তি করে অনুচ্ছেদ লিখা হয়ে থাকে। আশা করি পোস্ট টি  আপনাদের উপকারে আসবে। ভালো লাগলে কমেন্ট ও শেয়ার করুন। ধন্যবাদ।

    3 Comments